করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হবার পর গত সপ্তাহ ছিলো লস এঞ্জেলেসে সব চেয়ে খারাপ অবস্থা। নিত্য নতুন নতুন রেকর্ড হয়েছে। শনিবারে লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে আরও ২,৭৭০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা যান ৩৭ জন। চতুর্থ ধারাবাহিক দিনেও ২,১০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হেলথ ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে তাদের ১৮ শতাংশকে ভেন্টিলেটর ও ২৮ শতাংশকে আইসিওতে রাখা হয়েছে।
চল্লিশ বছরের বেশি বয়সী যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। শনিবার যে সাইত্রিশ জন মারা যান তাদের পঁচিশ জনের বয়স পঁয়ষট্টির বেশি। দুই জনের বয়স চল্লিশের নিচে। তবে তারা সকলে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগ ছিলো।
ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। শনিবারে ৩৮০,০০০ এর ওপরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণ এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। লস এঞ্জেলেস মেয়র এরিক গারসিটি বলেন, ‘এই যুদ্ধে একটা সহজ সত্য হলো এই ভাইরাস আমাদের আরও বেশি সংক্রমিত করছে।’
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর গভর্নর গেভিন নিউসাম ২৮ জুলাই সাতটি কাউন্টির বার বন্ধ করেন এবং ১ জুলাই রেস্টুরেন্টের ভেতর খাবার খাওয়া বন্ধ করেন। কর্মকর্তারা বলছেন এই বন্ধ কাজ করছে কিনা এটা বুঝতে তিন সপ্তাহ লাগবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাগরিকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বাসার বাহির হলে মাস্ক পড়তে এবং তিনটি কাজ এড়িয়ে চলতে। এগুলো হলো জনসমাগম না করা, এক জায়গা আবদ্ধ না হওয়া এবং নিবিড় যোগাযোগ না করা। তারা বলেন, যদি মনে করেন আপনার করোনা হয়েছে তাহলে বাসায় থাকুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরীক্ষা করান। পরীক্ষা ফল না পাওয়া পর্যন্ত এমন ভাবে চলুন যেন মনে হয় আপনি আক্রান্ত। এর মানে হলো দশ দিন সেলফ আইসোলিশনে থাকা।
হেলথ ডিরেক্টর বারবারা ফেরার বলেন, ‘আমরা একটা চরম হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি অনুরোধ করবো যেন আমরা সকলে বিনীত আচরণ করি। সকলে মিলে অসুস্থতা ও মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারবো।’
এলএ বাংলা টাইমস/এস/আর