লস এঞ্জেলেস

ফাহিম সালেহ হত্যার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করলো পুলিশ



হোমডিপো নামে একটি হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে ইলেকট্রনিক করাত ও ঘর পরিষ্কারের সরঞ্জাম কিনে ছিলেন টাইরেস ডেভোঁ হ্যাসপিল(২১)। নিউইয়র্ক শহরের একটি পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ওই করাত ও ধুয়া-মুছার যন্ত্র ফাহিম সালেহের মৃত দেহের পাশে পরে ছিলো। এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ধারণা করা হচ্ছে টাইরেস এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক পুলিশ প্রাথমিকভাবে অভিযোগ এনেছে আদালতে। খুব শিগগির এই হত্যাখাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 

ফাহিম সালেহের হত্যা রহস্যের অপর কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে একাধিক বিষয় বিশেষ করে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কী না সে বিষয়গুলো সামনে রেখে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে এবং তার ব্যাক্তিগত সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

এদিকে ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফাহিম সালেহকে ইলেকট্রিক স্টানগান (টেজার) দিয়ে দুর্বল করে ঘাড় ও গলায় কাছে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে তার দেহ টুকরো করা হয়। পরে হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে প্ল্যাস্টিক ব্যাগে ভরে লাশ অন্য কোথাও ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো হত্যাকারী। কিন্তু ফাহিমের এক কাজিন তার খোঁজে আসায় সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কলবেলের শব্দ পেয়ে খুনি জরুরি বহির্গমণ সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে গেছে, এমনটাই মনে করছেন গোয়েন্দারা।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত করলেও প্রথম প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়িক বিষয়কে। কারণ নাইজেরিয়ায় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘গোকাডা’ চালু করতে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়েছিলেন ফাহিম। পরে রাইড শেয়ারিং বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চালু করেন পার্সেল ডেলিভারি সার্ভিস। সেটি ব্যবসা সফল হয়। শুধু নাইজেরিয়ায় নয়, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় একই রকম দুটি সার্ভিস চালু করেন ফাহিম সালেহ। এছাড়া নিউইয়র্কে চালু করেন মূলধনী সংস্থা ‘অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল’।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ করে নাইজেরিয়ায় ‘গোকাডো’ পরিচালনা নিয়ে কারো সঙ্গে ফাহিমের ব্যবসায়িক বিরোধ তৈরি হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাংলাদেশে ‘পাঠাও’ চালুর পর ব্যবসা সফল হওয়ার পরও সেখান থেকে কেন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন ফাহিম এ বিষয়টিও পুলিশ অনুসন্ধান করছে। ফাহিমের পরিবারে সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, খুনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে একটি গাড়িতে চড়ে ওই এলাকায় এসেছিলেন। পুলিশ সেই গাড়িটিরও সন্ধান পেয়েছে। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন খুনিকে তাদের কব্জায় নিলেও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ফাহিম সালেহ লিফটে সপ্তম তলা নির্বাচন করতে একটি ‘কি ফোব’ ব্যবহার করেছিলেন। ‘কি ফোব’ সাধারণত ভবনের বাসিন্দা এবং অনুমোদিত ব্যক্তির লিফট ব্যবহারের জন্য। তবে পুলিশ যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সেখানে একজন ব্যক্তি কালো পোশাক পরা এবং একটি ব্যাগ হাতে ফাহিম সালেহের সঙ্গেই লিফটে প্রবেশ করে। কিন্তু ওই ব্যক্তি ‘কি ফোব’  ছাড়াই অন্য একটি তলা নির্বাচন করেছে এমন অভিনয় করেন। এসময় দুজনের মধ্যে বাক্য বিনিময়ও হয়। ভিডিও ফুটেজে শব্দ ধারণ না থাকায় তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে তা পুলিশের পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। ফাহিম সপ্তম তলায় তার বাসার ফ্লোরে নেমে গেলে কালো পোশাক পরা লোকটিও নেমে যায় এবং ফাহিমকে লক্ষ্য করে ইলেকট্রিক স্টানগান বা টিজার জাতীয় কিছু ছুঁড়ে মারে। এরপরের কোনো দৃশ্যের বর্ণনা দেয়নি পুলিশ।

এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহত ফাহিম সালেহের পরিবার। নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে এই হত্যাকান্ডটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। খুব শিগগির অগ্রগতি হবে।
এলএ বাংলা টাইমস/এ/আই