লস এঞ্জেলেস

আপনার শিশুকে কীভাবে সাইবার অপরাধ থেকে নিরাপদ রাখবেন



করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে চলেছে। শিক্ষা কার্যক্রম চলবে অনলাইনে। বর্তমানে করোনাভাইরাসই একমাত্র বিষয় নয় যা নিয়ে শিক্ষার্থীর পিতা মাতাকে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাদেরকে শিক্ষার্থীরা যেন সাইবার বা অনলাইনে যৌন অপরাধের দিকে না ধাবিত হয় সে দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।   

এফবিআই স্পেশাল প্রতিনিধি এমান্ডা ডিটারমাইন বলেন, ‘পিতা মাতাকে তাদের শিশুর সাথে কথা বলা উচিত। শিশুদের বোঝানো উচিত কারা অনলাইনে কথা বলছেন। আর পিতা মাতা হিসেবে আপনাকেও তথ্য গুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’ 

অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ক্রিয়া ও ক্লাস অনলাইনে করতে বেশি উৎসাহ প্রদান করতে হচ্ছে। পিতা মাতারা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অনলাইন অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারেন। এন্টিভাইরাস ও প্রাইভেসি সেটিং ব্যবহার করে এটা করা যেতে পারে। শিশুদের জন্য প্যারেন্স কনট্রোল ইন্সটল করা এবং তাদের বুঝানো অনলাইনে ভালো নাগরিক হতে। পিতা মাতাকে তাদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমে সতর্ক ও জড়িত থাকতে হবে। 

ডিটারমাইন বলেন, ‘এমনকি আপনি যদি কাজে থাকেন, বিরতি পেলেই আপনার ছেলে মেয়ের ফোন চ্যাক করুন। পাঁচ মিনিট সময় নিন আর দেখুন আপনার শিশু কি করে। তারা কার সাথে কথা বলে। তাদের কথা বার্তার ধরণ কি।’ 

করোনাভাইরাস মহামারিতে গৃহ শিক্ষা জনপ্রিয় হয়েছে। কেননা পিতা মাতারা তাদের সন্তানদের স্কুল ক্যাম্পাসে পাঠাতে ভয়ে পাচ্ছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি এ্যাপ ডাউনলোড করার আগে পিতা মাতা ও শিক্ষাবিদদের এটা পরীক্ষা করা ও এর সাথে ভালো করে পরিচিত হওয়া উচিত। বুঝা উচিত এই এ্যাপটা কি করে কাজ করে। 

অধ্যাপক কারেন নর্থ বলেন, ‘মানুষ বুঝতে পারে না তারা যে এ্যাপগুলো ব্যবহার করছে শিক্ষা বা ক্লাবের খেলা পরীক্ষা করতে তা অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়ের অন্যতম উৎস। ওই সাইটগুলো তথ্য সংগ্রহ করে এবং এইগুলো বিক্রি করে দেয়।’  

তিনি পিতা মাতাদের সতর্ক করে বলেন যে এ্যাপগুলো ফেসিয়াল বা রেটিনা স্কেন চায়, ব্যক্তিগত তথ্য বা শিশুর কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রণ চায় সে গুলো যেন তারা ব্যবহার না করেন। এমনকি যে এ্যাপগুলো বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করে থাকে সে গুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে। 

নর্থ বলেন, ‘যদি অনলাইনে অভিজ্ঞ না হন তাহলে বাস্তব যুক্তি ব্যবহার করে তাদের শেখাতে হবে কিভাবে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে হয়।’  এছাড়া অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের শেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা হতে পারে অপরিচিত কারও সাথে কথা বলা কিংবা নিজের কোনো সংবেদনশীল ছবি পাঠানোর বিষয়ে।   

এলএ বাংলা টাইমস/এস/আর