গতিশীল হতে যাচ্ছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টির টিকাদান কার্যক্রম। টিকাদান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টিকার ডোজের বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি। আর এই ডোজগুলোর সিংহভাগ খরচ করা হবে প্রথম ডোজের পিছনে।
শুক্রবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টি ভ্যাকসিন কার্যক্রমের প্রধান ড. পল সিমন জানান, আগামী সপ্তাহে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ৩ লাখ ১৩ হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ টিকা খরচ করা হবে প্রথম ডোজের জন্য।
গত সপ্তাহে লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ২ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এখনো ৬ লাখ টিকা প্রত্যাশী রয়েছে।
তবে খুব শীঘ্রই এসব টিকা প্রত্যাশীদের টিকা দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. পল সিমন। তিনি বলেন, ‘টিকার বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে কার্যক্রম ঠিক কতোটা গতিশীল হবে, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই’।
নতুন বরাদ্দকৃত টিকার মধ্যে ৫৩ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা হলো জনসন এন্ড জনসনের এক ডোজের টিকা। তবে আবারো এক ডোজের এই টিকা পেতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ড. পল সিমন। তবে এপ্রিলের দিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের টিকার বরাদ্দ বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
আগামী সপ্তাহে কবে কাদের টিকা দেওয়া হবে?
১) ফুড এন্ড এগ্রিকালচার ওয়ার্কার- সোমবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার
২) ৬৫ ও এর বেশি বয়েসী বাসিন্দা- বুধবার ও শুক্রবার
৩) এড্যুকেশন ও চাইল্ড কেয়ার ওয়ার্কার- শনিবার
৪) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও নন-পাবলিক স্কুল- রবিবার
৫) ইমার্জেন্সি সার্ভিস ওয়ার্কার- বুধবার
এদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ সূত্র এই তথ্য জানিয়ে বলেন, লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে শনিবার নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৮২৩ জন বাসিন্দা। একই দিনে মারা গেছেন আরো ৯৮ জন বাসিন্দা।
মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ হাজার ৮ জনে। আর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১২ লাখ ১ হাজার ৮৬৬ জন।
পাবলিক হেলথ ডিরেক্টর বারবারা ফেরের বলেন, 'মৃতের নতুন এই মাইলস্টোন আমাদের মনে করিয়ে দেয় করোনার জন্য আমরা কতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি'।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে আক্রান্ত, মৃতের সংখ্যা ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কমছে। তবু প্রত্যহ ১০০ জনের কাছাকাছি বাসিন্দার মৃত্যু হচ্ছে।
নভেম্বরের পর থেকে লস এঞ্জেলেসে আক্রান্তের গড় নেমে এসেছে ১ হাজার ৫০০ জনে। দেশের অন্যতম জনবহুল এই কাউন্টিতে করোনার ঢেউ শুরু হওয়ার সময় প্রতিদিন ১৫ হাজার বাসিন্দা আক্রান্ত হতো।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম