লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে আবারো বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বুধবারে (২০ জুন) লস এঞ্জেলেস কাউন্টি পাবলিক হেলথ সূত্র জানায় , গত দুই সপ্তাহে করোনা আক্রান্তের হার আগের থেকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবারে কাউন্টিতে ৪২২জন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিগত ১৫ জুন কাউন্টিতে করোনা সংক্রান্ত অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ জুন টেস্ট পজিটিভিটি ছিলো ০.৫% যা বর্তমানে বেড়ে ১.২% পৌঁছিয়েছে। জুন ১২ এ টেস্ট পজিটিভিটি ছিলো ০.৪% ও গত শুক্রবার (২৫ জুন) টেস্ট পজিটিভিটি ছিলো ০.৮%।
কাউন্টির ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ একটি বিবৃতিতে বলে, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বৃদ্ধির হার আশংকাজনক হলেও এটি শীতকালের মত নয়। শীতকালে প্রতিদিন ১৫,০০০ এর অধিক রোগী সনাক্ত হতো ও টেস্ট পজিটিভিটির হার ২০% ছিলো’।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করোনা পরীক্ষাকারী মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাচ্ছে। যারা পরীক্ষা করছে তারা করোনার লক্ষণ থাকার কারণেই পরীক্ষা করছে। এর ফলে পজিটিভিটি রেট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে আমেরিকার ৫০টি রাজ্যেই করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই এলএ কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে মাস্ক পড়ার পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে তাদেরকেও মাস্ক পড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এলএ কাউন্টি পাবলিক হেলথ ডিরেক্টর বারবারা ফেরের বলেন, ‘আপনি স্বাভাবিকভাবেই জানবেন না যে আপনার চারপাশে কারা ভ্যাকসিন নিয়েছে। সুতরাং, ভদ্রতাস্বরুপ মাস্ক পড়া আপনার দায়িত্ব।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে মাস্ক পড়ার অনুরোধ করছে। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে, তাদেরও মাস্ক পড়া উচিত বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এদিকে, আজ ক্যাল স্টেট লস অ্যাঞ্জেলেসে টিকা দেওয়ার জন্য শেষ দিন ছিলো । কয়েক মাস ধরে, এই ভ্যাকসিনেশন সাইটটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বুধবার, চাহিদা কমে যাওয়ায় সাইটটি প্রায় খালি ছিল।
কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি নতুন গবেষণা বলছে যে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক যারা ভ্যাকসিন নিতে চান তারা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। গবেষণায় এটিও এসেছে যে ১৪% প্রাপ্তবয়স্ক ভ্যাকসিন নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন-এর ডিরেক্টর ড. রেচেল ওয়েলন্সকি বুধবার “গুড মর্নিং আমেরিকা” অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যে সকল এলাকায় উচ্চমাত্রার ঝুঁকি আছে, সেসকল এলাকার স্থানীয় প্রতিনিধিদের ভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।
ওয়েলন্সকি বলেন, ‘যে সকল এলাকায় ভ্যাকসিন নেওয়ার হার কম, সেসকল এলাকায় করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা স্থানীয় পর্যায়ে নীতিমালা তৈরি করার পরামর্শ দেব। মাস্ক পরার নীতিমালাগুলো আমরা ভ্যাকসিন নেয়নি এরকম মানুষদের রক্ষার জন্যই গ্রহণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি যে ভ্যাকসিন গ্রহণকারী সকল ব্যক্তিই করোনা থেকে নিরাপদ।‘
এলএবাংলাটাইমস/এমডব্লিউ