লস এঞ্জেলস কাউন্টিতে এই সপ্তাহ থেকে পুনরায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর দেখাদেখি, রাজ্যের আরো ১০টি কাউন্টি তাদের বাসিন্দাদেরকে ইনডোরে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছে।
কাউন্টিগুলো হচ্ছে: সান ফান্সিস্কো, সাক্রামেন্টো, ইয়োলো, ফ্রেস্নো, আলামেডা। কন্ট্রা কোস্টা, মারিন, সান মাতেও, সান্তা ক্লারা ও সোনোমা। এর পাশাপাশি বার্কলি শহরও ইনডোরে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছে। কাউন্টিগুলোর মোট জনসংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের সমান।
করোনার হার অত্যধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় লস এঞ্জেলস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক হেলথ ঘোষণা করে যে বৃহস্পতিবার থেকে ইনডোরে পূর্বের ন্যায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ যে, এই আদেশটি সম্পূর্ণরূপে ভ্যাক্সিনেটেড ব্যক্তিদেরও পালন করতে হবে।
শনিবার রাত ১১.৫৯ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক ব্যবহারের আদেশটি কার্যকর হবে। পূর্বে, কাউন্টি শুধু ইনডোরে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিতো।
বৃহস্পতিবারে (১৫ জুলাই) ক্যালিফোর্নিয়াতে ৪,৬৫১টি নতুন করোনা কেস পাওয়া গেছে। এটি ফেব্রুয়ারি ২২ এর পর একদিনে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ করোনা রোগীর সংখ্যা। গত সপ্তাহেও রাজ্যে টেস্ট পজিটিভিটির হার ছিলো ২ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
এর মাধ্যমে কি ক্যালিফোর্নিয়াতে পূর্বের ন্যায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে যেতে পারে?
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে এখনো কোন মতামত দেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণরূপে ভ্যাক্সিনেটেড ব্যক্তিদের মাস্ক ব্যবহার করাটা দরকার নাও হতে পারে। পরিসংখ্যান দেখায় যে ভ্যাক্সিনেটেড ব্যক্তিরা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে খুব কম আক্রান্ত হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক হেলথের পরিসংখ্যান দেখায় যে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে, রাজ্যটি ভ্যাক্সিন গ্রহণকারী ২০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যক্তির মধ্যে ৮,৬৯৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ এলার্জি এন্ড ইনফেকসাস ডিজিজস-এর প্রধান ড. এন্থনি ফাউচি শুক্রবারে একটি বিবৃতি দেন। তাঁর মতে, সম্পূর্ণরূপে ভ্যাক্সিন গ্রহণকারীদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারবে না।
ফাউচি বলেন ‘নাকের ফ্যারিঙ্কসে উপস্থিত ভাইরাসের মাত্রার উপর ভিত্তি করে অনুমান করা যায় যে ভ্যাক্সিনেটেড ব্যক্তিরা ভাইরাসটি ছড়াতে পারবে না।,’
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে সমস্যার মূল কারণই হচ্ছে যে অনেকেই এখনো ভ্যাক্সিন নিচ্ছে না।
আমেরিকান শিশুদের মাত্র এক তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে ভ্যাক্সিনেটেড। জুন মাস থেকে আমেরিকাতে ১২৯ শতাংশ হারে করোনা কেস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিডিসির ডিরেক্টর রোসেল ওয়েলন্সকি বলেন ‘এটি এখন ভ্যাক্সিনহীন ব্যক্তিদের মহামারীতে পরিণত হয়েছে।‘
এল.এ. কাউন্টিতে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সের বাসিন্দাদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ব্যক্তিই সম্পূর্ণভাবে ভ্যাক্সিন নিয়েছে। রবিবার থেকে তাদের আবার প্রকাশ্যে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
এলএ কাউন্টির বাসিন্দা মার্কোস পেদ্রো বলেন ‘আমি ভ্যাক্সিন নিয়েছিলাম যাতে আমার জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। কিন্তু এখন দেখছি ভ্যাক্সিনটি নিয়ে কোন লাভ হলো না।‘
অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এলএ অধিবাসী ইসাবেল সিল বলেন ‘এটি কার জন্য শাস্তি হিসেবে কাজ করে না। এটি জনস্বাস্থ্যের খাতিরে প্রয়োজন। আমাদের উচিত বিশেষজ্ঞদের উপদেশ মেনে চলা।‘
এলএবাংলাটাইমস/এমডব্লিউ