দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর মালিবুর বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ডিউক’স আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই মাসে দুইটি বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে গেলেও এবার ভূমিধসের কারণে রেস্তোরাঁটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় মহাসড়কের ২১১৫০ নম্বরে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি সম্প্রতি প্যালিসেডস ফায়ার এবং ফ্র্যাঙ্কলিন ফায়ারের সময়ও বন্ধ ছিল।
প্যালিসেডস ফায়ার ছড়িয়ে পড়ার রাতেই এই রেস্তোরাঁ আহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দমকলকর্মীরাও সেখানে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য অবস্থান করেছিলেন।
তবে এবার প্যালিসেডস ফায়ারের ফলে সৃষ্ট বার্ন স্কার (burn scars) বা পোড়া পাহাড়ি ঢালে বৃষ্টির কারণে ভূমিধস দেখা দেওয়ায় রেস্তোরাঁটির কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মীরাও নতুন করে বেকার হয়ে পড়েছেন।
ডিউক’স-এর জেনারেল ম্যানেজার জিমি চাভেজ বলেন, “এটি আমাদের জন্য যেন তৃতীয় ধাক্কা। আমরা আগুন থেকে বেঁচে গিয়েছি, সেটাই অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। আশপাশে অনেকেরই তো ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। তবে এবার ভূমিধস আমাদের দিকটাই বন্ধ করে দিয়েছে।”
ভূমিধসের পর রেস্তোরাঁর চারপাশে কাদায় ঢাকা পড়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা করলেও এখনো বিপদ পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তারা।
যদিও বৃষ্টি থেমে গেছে এবং আকাশ পরিষ্কার, তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুনে পোড়া ঢালের মাটি এখনো ভিজে থাকায় পাহাড় ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
চাভেজ আরও বলেন, “লাস ফ্লোরেস ক্যানিয়ন (Las Flores Canyon) নদীর রূপ নিয়ে আমাদের পার্কিং লটে প্রবেশ করেছিল এবং প্রায় সব দরজা দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ২০১১ সালে আমরা একবার ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়ংকর।”
এদিকে ক্যালট্রান্স (Caltrans) জানিয়েছে, শনিবার সকালে প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের চটকুয়া বুলেভার্ড (Chautauqua Boulevard) থেকে কার্বন বিচ টেরেস (Carbon Beach Terrace) পর্যন্ত একটি অংশ সফট ক্লোজার ঘোষণা করা হয়েছে।
সেই অংশে শুধুমাত্র জরুরি সেবা সংস্থার কর্মী, ঠিকাদার ও ইউটিলিটি কর্মীদের জন্য একটি লেন খোলা রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ মাইল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম