লস এঞ্জেলেস

মেক্সিকোতে আটক আমেরিকান দম্পতি, মুক্তির দাবি জানাল পরিবার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের স্প্রিং আরবার শহরের বাসিন্দা পল এবং ক্রিস্টি একেও বর্তমানে মেক্সিকোর একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। ক্রিস্টির মেয়ে লিন্ডসে হল জানিয়েছেন, তার মা ও সৎ বাবা গত ৪ মার্চ কানকুনের একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন এবং গত ২১ দিন ধরে বিনা জামিনে আটক রয়েছেন। নেক্সস্টারের ডব্লিউএলএনএস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হল অভিযোগ করেন, একটি হোটেল গ্রুপ "দ্য প্যালেস কোম্পানি" কর্তৃক আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডে করা চার্জ নিয়ে আপত্তি তোলার কারণেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। হল জানান, একেও দম্পতি মেক্সিকো পৌঁছানোর পর কাস্টমস পার হওয়ার সময় তাদের পাসপোর্টে একটি নোটিশ দেওয়া হয়, যা তাদের গ্রেফতারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় মেক্সিকান সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কানকুনের একটি হোটেল চেইন থেকে এক লাখ ডলারের বেশি প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তারা একটি মেম্বারশিপ কেনার জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের জন্য তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়। কানকুন-ভিত্তিক সংবাদপত্র রিভেরা মায়া নিউজ জানিয়েছে, পল একেও মোট ১৩টি লেনদেন বাতিল করেছেন, যার পরিমাণ ১,১৬,৫৮৭ মার্কিন ডলার (তৎকালীন সময়ে প্রায় ২৪ লাখ মেক্সিকান পেসো)। এ ছাড়া, ক্রিস্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপে হোটেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার কৌশল শেয়ার করেছিলেন। তবে, হল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমেরিকান এক্সপ্রেস তদন্তের পর একেও দম্পতির পক্ষেই রায় দিয়েছে। “এই ঘটনা সবাইকে জানানোর জন্য এবং সত্য প্রকাশের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি,” এক টেক্সট বার্তায় হল বলেন, “সত্যের জয় হবে।” পরিবার জানিয়েছে, তারা মেক্সিকোতে মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু এখনও পল ও ক্রিস্টিকে মুক্ত করা হয়নি। হল জানান, তারা আমেরিকান ও মেক্সিকান উভয় আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। তবে, তাদের মুক্তির জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ২,৫০,০০০ ডলার দাবি করছে এবং এমন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বলছে, যা তাদের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। এ ঘটনায় একেও পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত হতাশ ও উদ্বিগ্ন। “আমরা ২১ দিন ধরে আমার সৎ বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে পারিনি,” হল বলেন। “আমার মা প্রতিদিন মাত্র একবার ফোন করতে পারেন, তাও খুব স্বল্প সময়ের জন্য। ফোনে কেউ তাকে কথা বলা বন্ধ করতে বললেই তাকে ফোন রেখে দিতে হয়।” এদিকে, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য টম ব্যারেট জানিয়েছেন, তিনি পরিবারটির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যাতে একেও দম্পতিকে দ্রুত মুক্ত করা যায়।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম