লস এঞ্জেলেস

অভিবাসন হানায় বদলে যাচ্ছে লস এঞ্জেলেসের সাধারণ মানুষের জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের পর থেকে লস এঞ্জেলেসসহ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে চলছে কঠোর অভিবাসন অভিযান। এই অভিযান এখন স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করছে। লস এঞ্জেলেসের ম্যাকআর্থার পার্ক, ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্ট, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, কৃষি এলাকা, এবং হোম ডিপোর মতো কাজের জায়গাগুলোতে এখন প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে মাস্ক পরা, অস্ত্রধারী ফেডারেল অফিসারদের। তারা কখনো পোশাকে, আবার কখনো সাধারণ মানুষের মতো সেজে অভিবাসীদের খোঁজ করছে। গত মাসে এক বড় অভিযানে ম্যাকআর্থার পার্ক এলাকা থেকে অন্তত ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল না। সেখানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং বিস্ফোরক জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপরই লস এঞ্জেলেসে মোতায়েন করা হয় প্রায় ২,০০০ সদস্যের ন্যাশনাল গার্ড। সাক্রামেন্টোসহ আরও অনেক এলাকায় “কোনো নিরাপত্তা নেই” এমন প্রচার চালিয়ে হানা দিচ্ছে ইমিগ্রেশন অফিসাররা। এজেন্টরা অনেক সময় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করছেন, যা নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। অনেক অভিবাসী এখন কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা রেস্তোরাঁ, গার্মেন্ট, বাসা পরিষ্কার, গার্ডেনিং বা স্ট্রিট ফুড বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তারা এখন কাজ ফেলে ঘরে লুকিয়ে থাকছেন। ম্যাকআর্থার পার্কে অভিযান হওয়ার পর থেকে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, যেন জায়গাটা ফাঁকা হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযানের কারণে লস এঞ্জেলেসের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই হানার পর বেসরকারি খাতে চাকরির হার ৩.১% কমে গেছে, যা মহামারি সময়ের চেয়েও ভয়াবহ। স্থানীয় মেয়র কেরেন বাস আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল র‌্যাব বন্টা ফেডারেল অভিযান থামাতে আদালতে লড়ছেন। কিন্তু অভিবাসীদের মতে, তাদেরকে এখন এমনভাবে ধাওয়া করা হচ্ছে যেন তারা অপরাধী—তাদের জীবিকা, নিরাপত্তা, এমনকি সম্মানও আজ প্রশ্নের মুখে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগ লস এঞ্জেলেসের সমাজ ও জীবনযাত্রায় ভয়াবহ পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম