লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসে আরভি জঞ্জাল: কপার চুরি, আগুন, আর আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা

লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ইস্ট গার্ডিনা ও ওয়েস্ট র‌্যাঞ্চো ডোমিনগেজ এলাকায় গড়ে ওঠা একটি আরভি (RV) জঞ্জাল অঞ্চল ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তার ধারে সারি সারি পুরনো আরভি ও ট্রেইলার দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বেআইনি ময়লা ফেলা, কপার (তামা) চুরি, অগ্নিকাণ্ড এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ব্যারি ব্রুকার বলেন, “আগে এ জায়গাটা কাজের জন্য অসাধারণ ছিল। এখন কাউন্টি যেন একে নরকে পরিণত হতে দিয়েছে।”
তিনি জানান, তার কালি তৈরির কারখানা থেকে প্রায় ১ লাখ ডলারের কপার, পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। পুরো কারখানার পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। চোরেরা বৈদ্যুতিক খুঁটির তার কেটে দিয়ে পুরো ভবন নষ্ট করে রেখে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদিও কিছু এলাকায় আরভি ক্যাম্প সরানো হয়েছে, কিন্তু অন্য ব্লকে আবার নতুন করে আরভি বসে যাচ্ছে।
মাইকেল ওয়েস্ট, ইস্ট গার্ডেনার একজন পোশাক ব্যবসায়ী, জানান, “চোরেরা আমাদের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনে হানা দিয়েছে। এখানে মাঝেমধ্যে আগুন লাগে, খুবই বিপজ্জনক অবস্থা।” একই এলাকার এক ট্রেইলারে থাকেন জেনিফার মুনোজ এবং তার তিন সন্তান। তিনি বলেন, “আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। আমার বাচ্চাদের জন্য একটা নিরাপদ জায়গা দরকার। আমি পাঁচ বছর ধরে এখানে আছি। সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না।” এদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপারভাইজার হলি মিচেল বলছেন, “সমস্যার সমাধান একমাত্র বাসস্থান। আমরা শেরিফ অফিস, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, পশু নিয়ন্ত্রণ এবং ময়লা পরিষ্কার বিভাগ—সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, কাউন্টির উদ্যোগে একটি পাইলট প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, যেখানে RV মালিকরা ৬ মাস পর্যন্ত নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি রেখে থাকতে পারেন—যতদিন না তারা স্থায়ী আবাসন পান। তবে শর্ত হলো, RV চালু থাকতে হবে এবং মালিকানা প্রমাণ থাকতে হবে। কিন্তু অনেকেই এই শর্ত পূরণ করতে পারেন না। এলাকায় কিছু উন্নতির চিহ্ন দেখা গেলেও, অব্যবস্থাপনা, ভয়, অপরাধ এবং হতাশা এখনো ঘিরে রেখেছে বসবাসকারীদের। মিচেল বলেন, “৭০,০০০ মানুষ প্রতিদিন আমাদের রাস্তায় ঘুমাচ্ছে। এটা এক দিনে তৈরি হয়নি, আবার এক রাতেই এর সমাধানও হবে না।”

এলএবাংলাটাইমস/ওএম