দক্ষিণ লস এঞ্জেলেসে শত শত গিনিপিগ ভয়াবহ অবস্থায় পাওয়া গেছে। একটি বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গিনিপিগ উদ্ধার করা হয়েছে, যারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকছিল। এদের অনেকেই ছিল অসুস্থ, অপুষ্ট ও চিকিৎসাবিহীন।
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া গিনিপিগ রেসকিউ (SCGPR) ও আরও কয়েকটি প্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, এই ঘটনা শুরু হয় যখন তারা জানতে পারে একজন বাসিন্দা উচ্ছেদের মুখে পড়ে প্রায় ২০০টি গিনিপিগ ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সংখ্যা ছিল তার চেয়েও দ্বিগুণ।
উদ্ধারকারীরা জানায়, গিনিপিগগুলো ছোট ছোট খাঁচায় গাদাগাদি করে থাকছিল, খাবার হিসেবে ছিল শুধু ভুট্টার খোসা, আর ৮০-১০০টি গিনিপিগ মিলে একটি পানির বোতল ভাগ করে খাচ্ছিল। অনেকে ছিল অসুস্থ—কেউ অপুষ্টিতে ভুগছিল, কারও গায়ে খোলা ঘা, আবার কারও শরীরে ছত্রাক বা টিউমার ছিল। মৃত গিনিপিগও পাওয়া গেছে।
তাদের মধ্য থেকে খুব অসুস্থ ৩৩টি গিনিপিগ উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো কয়েকশো গিনিপিগ সেখানেই রয়ে গেছে।
এদিকে সরকারি একজন কর্মকর্তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে রেসকিউ গ্রুপগুলো। তিনি বলেছিলেন, প্রাণীগুলোর “সবকিছু ঠিক আছে” এবং “তারা সুস্থ ও সুখী।” কিন্তু উদ্ধারকারীরা বলেন, এটা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরের কথা।
SCGPR এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে ইউটিউবে, যেখানে গিনিপিগদের করুণ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এখন তারা সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছে কেউ যদি গিনিপিগ ফস্টার বা দত্তক নিতে পারেন, তাহলে যেন এগিয়ে আসেন। পাশাপাশি চিকিৎসা ও খাবারের জন্য সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংগঠনগুলো বলছে, এমন বড় বিপর্যয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণীগুলোর আরও মৃত্যু হতে পারে। তাই তারা সরকারের কাছে জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম