শত শত শিক্ষক শনিবার লস এঞ্জেলেস শহরের কেন্দ্রস্থলে মিছিল করে শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবারের অভিবাসন সংক্রান্ত হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
লস এঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (LAUSD) সদর দপ্তরের দিকে প্রায় এক চতুর্থাংশ মাইল পথ পায়ে হেঁটে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যান। তারা “ICE out of L.A.” এবং “Immigrants are welcome here” স্লোগানে মুখর ছিলেন।
এই মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষকরা LAUSD কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, যেন তারা শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে রঙিন এবং অভিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করে।
“তারা আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে অপেক্ষা করেছে,” বলেন ইউনাইটেড টিচার্স লস এঞ্জেলেস (UTLA)-এর মারিয়া মিরান্দা। “তারা স্কুলে প্রবেশের চেষ্টা করেছে, এমনকি শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা পরিবারের পিছু নিয়েছে।”
শিক্ষক ইউনিয়ন UTLA দাবি করেছে, জেলা কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালায় অভিবাসন ইস্যুতে যথেষ্ট সুরক্ষা নেই।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে শিক্ষার্থীরাও এই সমাবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
“আমাদের ক্লাসরুমে ভয়ের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে,” বলেন LAUSD শিক্ষার্থী ভ্যানেসা গুয়েরেরো। “অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে।”
বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন—স্কুলের দুই ব্লকের ভেতরে যেন কোনো ফেডারেল এজেন্ট প্রবেশ করতে না পারে, অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হোক এবং ভার্চুয়াল শিক্ষার সুযোগ রাখা হোক। তারা আরো বলেন, যারা ইতিমধ্যে বিতাড়িত হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এক শিক্ষিকা বলেন, তার এক ছাত্রী ও ছাত্রীর মা ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে ICE কর্তৃক আটক হন এবং পরে গুয়ার্টেমালায় ফেরত পাঠানো হয়।
“তার সিনিয়র বর্ষ শুরু হওয়ার কথা ছিল, অথচ এখন সে গোপনে গুয়াতেমালায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে,” বলেন ঐ শিক্ষক।
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বিচার অভিবাসন গ্রেপ্তার সংক্রান্ত একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
এদিকে LAUSD শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একসাথে লস এঞ্জেলেসের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, সহায়তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ — যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত অধিকার।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম