ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি স্কুলে ২০০১ সালে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও আরও ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দণ্ডিত চার্লস “অ্যান্ডি” উইলিয়ামস শিগগিরই মুক্তি পেতে পারেন। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী উইলিয়ামসের সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
২০০১ সালের ৫ মার্চ সকালে উইলিয়ামস তার বাবার তালাবদ্ধ অস্ত্রকক্ষ থেকে নেওয়া একটি কালো রঙের আট-গুলির রিভলভার নিয়ে নিজের স্কুল সান্তানা হাই স্কুলে ঢোকেন। এরপর স্কুলের হলওয়ে, বাথরুম এবং খোলা প্রাঙ্গণে নির্বিচারে গুলি চালান তিনি। লস এঞ্জেলেস টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় তিনি ৩০টির বেশি গুলি ছোড়েন এবং অন্তত তিনবার অস্ত্রটি পুনরায় লোড করেন।
গুলিবর্ষণে ১৭ বছর বয়সী র্যান্ডি গোরান ও ১৪ বছর বয়সী ব্রায়ান জাকার নিহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন আরও ১১ জন শিক্ষার্থী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক শিক্ষকের সহকারী এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী। উইলিয়ামসকে সহপাঠীদের দ্বারা উপহাসের শিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং নবম শ্রেণিতে ওঠার সময় তিনি হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
২০০২ সালে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয় এবং ৫০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, যুব অপরাধী হিসেবে প্যারোল পাওয়ার প্রথম সুযোগেও তার আবেদন নাকচ হয়।
তবে সান ডিয়েগো কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরের আপত্তি সত্ত্বেও, সম্প্রতি এক সুপিরিয়র কোর্ট বিচারক ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইনের আওতায় উইলিয়ামসের সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন অনুমোদন করেন। ওই আইন অনুযায়ী, যেসব কিশোর অপরাধীকে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে বিচার করা হয়েছিল, তারা সাজা পুনর্নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন।
২০১১ সালে প্রণীত ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনটি শুরুতে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কিশোরদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। ২০২২ সালের এক রায়ে এর পরিধি বাড়িয়ে এমন সাজাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা কার্যত প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবনের সমতুল্য।
ক্যালিফোর্নিয়ার কিশোর বিচার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সাজা ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত হওয়ায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে উইলিয়ামস তাৎক্ষণিক মুক্তির যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন বলে জানিয়েছে লস এঞ্জেলেস টাইমস।
মঙ্গলবারের শুনানিতে উইলিয়ামসের আইনজীবী লরা শেপার্ড যুক্তি দেন, তার মক্কেলের ৫০ বছর থেকে যাবজ্জীবন সাজা কার্যত প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবনেরই সমান। কেটিএলএ’র সান ডিয়েগো সহযোগী চ্যানেল কিউএসআই জানিয়েছে, বিচারক একমত হন যে উইলিয়ামস পুনঃসাজা নির্ধারণের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন, বিশেষ করে অপরাধের সময় তার বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায়।
আদালতে শেপার্ড বলেন, “আমার মতে, অপরাধের সময় তার বয়স এতই কম ছিল যে তাকে কখনোই প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে পাঠানো উচিত হয়নি। তার ক্ষেত্রে কিশোর পুনর্বাসন ব্যবস্থা, থেরাপি ও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।”
অন্যদিকে, প্রসিকিউটররা এই যুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী উইলিয়ামস ভবিষ্যতে যুব ও বয়স্ক—উভয় ধরনের প্যারোলের সুযোগ পেতে পারেন। সান ডিয়েগো কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি সামার স্টিফান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই আসামি পরিকল্পিত ও নির্মম হামলা চালিয়ে দুই তরুণ শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে এবং আরও ১১ শিক্ষার্থী ও দুই স্কুল কর্মকর্তাকে গুলি করেছে, যা একটি পুরো সম্প্রদায়কে চিরতরে মানসিকভাবে আঘাত করেছে। আইনকে একসময় আসামির অধিকার, ভুক্তভোগীর অধিকার এবং সমাজের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য আনতেই হবে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “অনেক স্কুল শুটারই কম বয়সী। তাহলে ভয়াবহ হামলা ঠেকাতে আমাদের আইনসভা তাদের কী বার্তা দিতে চায়?”
এই মামলায় কিশোর আদালতের শুনানি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম