রিয়েলটর ডটকমের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বাজারে যেসব এলাকায় মধ্যম (মিডিয়ান) বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি কমছে, সেসবের শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি মেট্রো শহর রয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে বাড়ির মধ্যম দাম বছরওয়ারি ভিত্তিতে ০.৬ শতাংশ কমেছে। অঞ্চলভেদে দক্ষিণাঞ্চলে দাম কমেছে ১.১ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে কমেছে ১.৮ শতাংশ।
যেসব মেট্রো এলাকায় বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে:
অস্টিন–রাউন্ড রক–সান মারকোস, টেক্সাস: ৭.৩% কমেছে
সান ডিয়েগো–চুলা ভিস্তা–কার্লসবাদ, ক্যালিফোর্নিয়া: ৬.৭% কমেছে
সান হোসে–সানিভেল–সান্তা ক্লারা, ক্যালিফোর্নিয়া: ৫.৫% কমেছে
মিনিয়াপলিস–সেন্ট পল–ব্লুমিংটন (মিনেসোটা–উইসকনসিন): ৪.৯% কমেছে
ওয়াশিংটন–আর্লিংটন–অ্যালেক্সান্দ্রিয়া (ডিসি–ভার্জিনিয়া–মেরিল্যান্ড–ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া): ৪.৮% কমেছে
পেছনের কারণ
রিয়েলটর ডটকম জানায়, অস্টিনে দামের বড় ধরনের পতন মূলত মহামারির পর বাজারের স্বাভাবিক সংশোধনের (করেকশন) ফল। কোভিড সময়কালে তুলনামূলক শিথিল বিধিনিষেধ এবং নতুন বাসিন্দাদের ঢলের কারণে সেখানে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছিল। এখন বাড়ির সরবরাহ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় দাম টেকসই পর্যায়ে ফিরে আসছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। উচ্চ হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং কন্ডো ফি বেড়ে যাওয়ায় এক ধরনের “পারফেক্ট স্টর্ম” তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রিয়েলটর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, “২০২৫ সাল ছিল খুব ধীরগতির। এর প্রধান কারণ ক্রেতাদের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। মানুষ তাদের আয় নিয়ে চিন্তিত এবং এখনই বাড়ি কেনার জন্য এটি ভালো সময় বলে মনে করছেন না।”
ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট কারা আমির বলেন, “উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, বাড়তি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ এবং বেশি কন্ডো ফি—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলেই দাম কমছে।”
সামগ্রিক চিত্র
বর্তমানে জাতীয় আবাসন বাজারে affordability (ক্রয়ক্ষমতা) ও inventory (সরবরাহ)-এর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে। অনেক ক্রেতা ৬ শতাংশের কাছাকাছি সুদের হার মেনে নিতে শুরু করলেও চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ভাড়া বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, ফলে উচ্চ মাসিক মর্টগেজ কিস্তির বদলে ভাড়া বাসায় থাকা অনেকের কাছেই সহজ মনে হচ্ছে।
সামনে কী হতে পারে
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাজারে ফিরতে শুরু করছেন। তবে অনেক বিক্রেতা এখনও দাম কমাতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে অস্টিনের মতো উচ্চ আয়ের এলাকায়, যেখানে বিক্রির চাপ তুলনামূলক কম।
কিছু বাজারে বিক্রেতারা কম দামে বিক্রি না করে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। এর প্রভাব ২০২৬ সালের শুরুতেও বাড়ির সরবরাহে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম