লস এঞ্জেলেস

এলএ শেরিফের ডেপুটিকে দেওয়া কফির কাপে ‘শূকরের ছবি’

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের এক ডেপুটিকে কফি পরিবেশনের সময় কাপে হাতে আঁকা একটি শূকরের ছবি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শেরিফ বিভাগ। ক্যালিফোর্নিয়ার নরওয়াক এলাকার একটি স্টারবাকস আউটলেটে গত ৯ জানুয়ারি এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, শূকরের ছবি সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হেয় করতে ব্যবহার করা হয়। তাই এই আচরণকে তারা “চরমভাবে আপত্তিকর, অনুচিত এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছে। যে ডেপুটিকে এই কফি দেওয়া হয়েছিল, তিনি নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লেখেন, টানা ১৬ ঘণ্টার দায়িত্ব পালনের মাঝখানে সামান্য শক্তি পাওয়ার জন্য তিনি ওই স্টারবাকসে কফি নিতে গিয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের সেবা করার পর বিষয়টি আমাকে হতাশ ও অসম্মানিত মনে হয়েছে। আমি শুধু ক্যাফেইন চেয়েছিলাম, কিন্তু এর বদলে অস্বস্তি নিয়ে সেখান থেকে বের হতে হয়েছে।” শেরিফ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেপুটি বিষয়টি দোকানটির ম্যানেজারকে জানান। ম্যানেজার তাকে আশ্বাস দেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। ঘটনার কথা জানার পর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফ রবার্ট লুনা স্টারবাকসের করপোরেট নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেরিফ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। শেরিফ লুনা নিজেও সংশ্লিষ্ট ডেপুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন। পাশাপাশি তিনি জানান, শেরিফ বিভাগের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসম্মানজনক আচরণ কখনোই সহ্য করা হবে না। এদিকে, রোববার সন্ধ্যায় কেটিএলএকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টারবাকসের এক মুখপাত্র কর্মীর এই আচরণের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, কাপে আঁকা ছবিটি একটি জনপ্রিয় মিম হলেও এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং কোনোভাবেই তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো উচিত ছিল না। স্টারবাকসের ওই মুখপাত্র বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা সংশ্লিষ্ট গ্রাহক এবং শেরিফ বিভাগের নেতাদের কাছে একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, যারা আমাদের সমাজকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন। আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” এই ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতির নিচে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট স্টারবাকস কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন এবং শেরিফ বিভাগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ শেরিফ বিভাগের অবস্থানকে “বিব্রতকর” ও অতিরিক্ত সংবেদনশীল বলে মন্তব্য করেছেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম