লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় কাজের জায়গায় ল্যান্ডস্কেপার দম্পতিকে নির্মমভাবে মারধর, সরঞ্জাম লুট

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কাজের সময় এক দম্পতি ল্যান্ডস্কেপারকে মারধর করে তাদের কাজের সরঞ্জাম লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দম্পতির একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দু’জনই মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে। গোফান্ডমিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসতেবান ভার্গাস ও তার স্ত্রী লিন্ডা হুয়ের্তা দক্ষিণ পাসাডেনায় তাদের এক গ্রাহকের বাড়িতে কাজ করছিলেন। সেই সময় ভার্গাস বাড়ির পেছনের আঙিনায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ দুই ব্যক্তি দম্পতির পিকআপ ট্রাকের কাছে গিয়ে ভেতর থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করতে শুরু করে। কাছেই থাকা লিন্ডা হুয়ের্তা বিষয়টি দেখে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দম্পতির এক গ্রাহক ব্র্যান্ডন রুইজ জানান, হুয়ের্তা চোরদের থামাতে গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
“সে একজনকে ধরে রেখেছিল, আর সে তখন ট্রাকে উঠে পালানোর চেষ্টা করছিল। ওই ব্যক্তি তাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যায়। পরে সে তাকে জোরে আঘাত করে, ফলে সে ট্রাক থেকে পড়ে যায়। সম্ভবত সেই আঘাত থেকেই তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে,” বলেন রুইজ। ঘটনার সময় লিন্ডা হুয়ের্তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, যার জন্য স্ট্যাপল দিতে হয়। রাস্তায় টেনে নেওয়ার কারণে তার পিঠে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয়। কেটিএলএকে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ভীত ও তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। স্ত্রীর নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে এসতেবান ভার্গাস আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রুইজ জানান,
“তিনি আমাকে বলেছিলেন, নতুন কিছু সরঞ্জাম কিনেছেন। আমি ভেবেছিলাম সেটা হয়তো বড়দিনের উপহার। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে এবং তাদের সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। তিনি আমাকে তাদের ট্রাক ও ভাঙা চেইন দেখান।” এই ঘটনায় দম্পতির প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের সরঞ্জাম হারাতে হয়েছে। “ছবিগুলো দেখার পর আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম,” বলেন রুইজ। “এই পরিবারগুলো কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে। এমন সময়ে, যখন অভিবাসন নিয়ে অনেক কিছু ঘটছে, তখন তাদের জীবিকার উৎস কেড়ে নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক।” ঘটনাটি পুলিশে জানানো হয়েছে এবং হামলা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত দুই সন্দেহভাজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রুইজ আরও বলেন, “আমি আশা করি যারা এটা করেছে, তাদের ধরা হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবারটি যেন এই শারীরিক ও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারে।” ভয়াবহ এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই দম্পতি আবার কাজে ফিরলেও, স্থানীয় কমিউনিটির উদ্যোগে একটি গোফান্ডমি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যাতে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন এবং সুস্থ হওয়ার সময় পরিবারের খরচ চালাতে পারেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম