যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়ার একদিন পরই ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সংস্থাটির বৈশ্বিক রোগ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়া নেটওয়ার্কে যোগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল আউটব্রেক অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্ক (GOARN)-এ যুক্ত হওয়া প্রথম এবং বর্তমানে একমাত্র মার্কিন অঙ্গরাজ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়া।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ ঘোষণা দেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের প্রতি এক ধরনের প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এ সপ্তাহে গভর্নর নিউসম সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিতে সফর করেন। যদিও একটি নির্ধারিত অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়, সফরকালে তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গভর্নরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন, তখন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়া দায়িত্ব নিচ্ছে। ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল আউটব্রেক অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্কে যোগ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সমন্বয় আরও জোরদার করছে।”
প্রায় ৮০ বছর আগে প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওর সদস্য ছিল। তবে দীর্ঘ সদস্যপদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর নিউসম বলেন, “ডব্লিউএইচও থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাহার একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত, যা ক্যালিফোর্নিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য ক্ষতিকর হবে। এই সিদ্ধান্ত থেকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা আমরা নীরবে প্রত্যক্ষ করব না। বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখে জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দেওয়া অব্যাহত রাখবে ক্যালিফোর্নিয়া।”
তিনি আরও বলেন, ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল আউটব্রেক অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্কে একমাত্র অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে স্বাস্থ্যনীতির ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া ক্রমশ ফেডারেল সরকারের অবস্থান থেকে আলাদা পথ অনুসরণ করছে। এ লক্ষ্যে রাজ্যটি একাধিক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে জোট বেঁধে ওয়েস্ট কোস্ট হেলথ অ্যালায়েন্স এবং গভর্নরস পাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্স গঠন করেছে, যার মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের নীতির বাইরে গিয়ে নিজস্ব জনস্বাস্থ্য কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম