লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯০ মৃত্যুর প্রতিবাদে সিটি হলের সামনে ব্যতিক্রমী ‘ডাই-ইন’ বিক্ষোভ

লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার সকালে সিটি হলের সামনে এক ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকীভাবে মাটিতে শুয়ে পড়েন, যা পরিচিত ছিল “ডাই-ইন” নামে। এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ২০২৫ সালে লস এঞ্জেলেস শহরে ট্রাফিকজনিত দুর্ঘটনায় নিহত ২৯০ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং একই সঙ্গে নিরাপদ সড়কের জোরালো দাবি তোলা হয়। ‘স্ট্রিটস আর ফর এভরিওয়ান (SAFE)’ নামের সড়ক নিরাপত্তা সংগঠনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড্যামিয়ান কেভিট বলেন, ২০১৫ সালের আগস্টে লস এঞ্জেলেস সিটি কর্তৃপক্ষ ‘ভিশন জিরো’ নীতিতে স্বাক্ষর করে ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। কেভিট জানান, ভিশন জিরো কার্যক্রম শুরুর পর থেকে শহরটিতে ট্রাফিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বিক্ষোভের সময় সিটি হলের সিঁড়িতে টাঙানো হয় একটি ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল— “মানুষ মারা যাচ্ছে, সিটি হল ব্যর্থ হচ্ছে।” নিহতদের স্মরণে সিঁড়ির নিচের অংশজুড়ে সাজানো হয় অসংখ্য হলুদ গোলাপ। বিক্ষোভকারীরা নিহতদের ছবি হাতে নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ব্রেক চাপুন, মানুষকে নয়” এবং “বাইকও ট্রাফিক, রাস্তা ভাগ করুন।” কর্মসূচিতে উপস্থিত লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য হুগো সোটো-মার্টিনেজ বলেন, শহরে যখন ট্রাফিক সহিংসতায় নিহত মানুষের সংখ্যা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের চেয়েও বেশি হয়, অথচ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না, তখন স্পষ্ট হয় যে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এসব মৃত্যু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু সড়ক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসন সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্কুল এলাকার আশপাশে গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড হাম, সাইনেজ এবং মোড় উন্নয়নের কাজ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নির্বাহী নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা সিটি হলের সিঁড়িতে ২৯০ সেকেন্ড নীরবে শুয়ে থাকেন, যা ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯০ জনের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়। নীরব সেই মুহূর্তে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে গভীরভাবে আবেগঘন। কর্মসূচি শেষে ড্যামিয়ান কেভিট গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ট্রাফিক ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার না করতে। তার মতে, এসব ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, বরং ‘ক্র্যাশ’ বা ‘কলিশন’। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো মানবিক ভুল ও অবহেলার ফল, যা সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম