লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনাবেচা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজ্যে বাড়ি বিক্রি নেমে এসেছে গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। রিয়েল এস্টেট বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটম (Attom)–এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার ৩১৭টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টার–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম এবং গড় বিক্রির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের শেষ দিকে মর্টগেজ সুদের হার কিছুটা কমলেও তা ক্রেতাদের বাজারে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বর পর্যন্ত আগের তিন মাসে মর্টগেজ সুদের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও ২০২৫ সালজুড়ে এবং ২০২৬ সালেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঋণের সুদের হার ধীরে ধীরে কমেছে। তবুও ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব সেন্ট লুইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ ডলার। অথচ ক্যালিফোর্নিয়ায় নভেম্বর মাসে এই মধ্যম মূল্য দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে। এই দাম ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারের সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫১ হাজার ডলারের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম। শুধু ক্রেতারাই নয়, বিক্রেতারাও চাপে রয়েছেন। রেজিস্টার–এর তথ্যমতে, গত তিন বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। তবে উচ্চ দাম ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতাদের দ্বিধা বাড়ছে। এই দ্বিধার প্রমাণ মিলছে বাড়ি কেনার চুক্তি বাতিলের হারেও। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়া মোট বাড়ি বিক্রির ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে—যা একটি রেকর্ড। এই হার ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে আরও বেশি। রিভারসাইডে বাতিলের হার ছিল ১৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং স্যাক্রামেন্টোতে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। রেডফিন জানায়, সান হোসেতে চুক্তি বাতিলের হার বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এর পরেই রয়েছে ওকল্যান্ড ও স্যাক্রামেন্টো। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্য, সুদের চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই সময়টা কঠিন হয়ে উঠেছে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম