লস এঞ্জেলেস

মেয়েকে বাঁচাতে অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত সন্দেহভাজন

 ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড কাউন্টিতে নিজের কিশোরী মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে এক সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এক বাবা। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে সান জাসিন্টো এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাবার একমাত্র লক্ষ্য ছিল মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা, নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তিনি পিছু হটেননি। পুলিশ জানায়, রাত প্রায় ১০টা ২৩ মিনিটে একটি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার খবর পেয়ে হেরন ওয়ে এলাকার একটি বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে তারা এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা বাইরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছিলেন। এদিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোন চার্জ দিতে ঘরে ঢুকলে এক অচেনা ব্যক্তির মুখোমুখি হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি বাড়ির ভেতর থেকে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রতিবেশী রবার্ট ডোরেমের ভাষ্য, নারীটি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে গ্যারেজে গিয়ে চিৎকার করে জানান, “বাড়ির ভেতরে বন্দুকধারী একজন অপরিচিত লোক রয়েছে।” এরপর তার স্বামী ঘরের ভেতরে থাকা মেয়েকে উদ্ধার করতে ছুটে যান। প্রতিবেশীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবার অস্ত্র প্রস্তুত করার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে ওই বাবা পাল্টা গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে নিস্তেজ করে দেন। পরে তিনি মেয়েকে নিরাপদে ঘর থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। আরেক প্রতিবেশী ফ্রান্সিসকো আগুইলার বলেন, প্রথমে তিনি শব্দগুলোকে আতশবাজির আওয়াজ ভেবেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, সেগুলো আসলে গুলির শব্দ। ঘটনার কিছুক্ষণ পর রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৫ বছর বয়সী ইসমায়েল মার্টিনেজকে মৃত অবস্থায় পান। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার আগে মার্টিনেজ তার বান্ধবীর সঙ্গে বাড়ি থেকে প্রায় এক মাইল দূরে ঝগড়ায় জড়ান এবং তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশ বলেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা তার বান্ধবীর সঙ্গে ওই পরিবারের কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িটিতে ঢোকার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ এলোমেলো এবং পূর্বপরিকল্পিত নয়। প্রতিবেশীরা মনে করেন, বাড়ির মালিক আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালিয়েছেন। তাদের মতে, তিনি শুধু নিজের পরিবারকেই রক্ষা করেননি, আশপাশের বাসিন্দাদেরও সম্ভাব্য বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন। এখন পর্যন্ত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে। এদিকে পরিবারের মানসিক পুনর্বাসন ও বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের খরচ জোগাতে স্থানীয়ভাবে সহায়তা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম