লস এঞ্জেলেসের সান ভ্যালিতে গৃহহীন মানুষের জন্য নতুন একটি ছোট ঘরের গ্রাম চালু করা হয়েছে। সোমবার চালু হওয়া এই আবাসন প্রকল্পে ২০০ জনের বেশি মানুষ অস্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাবেন।
লস এঞ্জেলেস শহরজুড়ে ৫০০টির বেশি ছোট ঘর নির্মাণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র কারেন বাস।
সান ভ্যালি মেট্রো লিংক স্টেশনের কাছে ১১০৮০ অলিন্ডা স্ট্রিটে নতুন এই আবাসন প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র কারেন বাস, সিটি কাউন্সিলওম্যান ইমেলদা পাডিলা এবং বেসরকারি সংস্থা হোপ দ্য মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই ছোট ঘরের গ্রামে মোট ৮৪টি ইউনিট রয়েছে। সেখানে ২০৮টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পটির নির্দিষ্ট নির্মাণ ব্যয় জানানো হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর অর্থায়ন এসেছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে। কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ১ ও ১৩-এ ভবিষ্যতে নির্মাণ হতে যাওয়া আরও কয়েকটি ছোট ঘরের প্রকল্পেও রাজ্য অর্থায়ন করছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আবাসনে থাকা বাসিন্দাদের কোনো ভাড়া দিতে হবে না। ছোট ঘরের গ্রামগুলো মূলত অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এখানে গৃহহীন মানুষদের থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আবাসিক তদারকি, প্রতিদিন তিন বেলা খাবার এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো, এসব মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ধীরে ধীরে স্থায়ী আবাসনে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত করা।
মেয়র কারেন বাস বলেন, গৃহহীন মানুষদের মোটেলে রাখার ওপর নির্ভরতা কমাতে ছোট ঘরকে অন্তর্বর্তীকালীন আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লস এঞ্জেলেসে স্থায়ী আবাসন নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শহরে ইতোমধ্যে শত শত ছোট ঘর চালু হয়েছে এবং আরও শত শত ঘরের নির্মাণ চলছে। এর মাধ্যমে রাস্তায় থাকা মানুষের জন্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
কাউন্সিলওম্যান ইমেলদা পাডিলা বলেন, এই ছোট ঘরগুলো শুধু আশ্রয়ের ব্যবস্থা নয়; এগুলো গৃহহীন মানুষের জন্য মর্যাদা, স্থিতিশীলতা এবং স্থায়ী আবাসনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ।
প্রকল্পটির পরিচালনাসংক্রান্ত সেবা দিচ্ছে হোপ দ্য মিশন। সংস্থাটি লস এঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি বা এলএএইচএসএর মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম