ক্যালিফোর্নিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে আসন্ন শীত মৌসুমে বন্যা ও উপকূলীয় প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি থেকে গুরুতর আগুন লাগতে পারে, এমনকি পানি নেমে যাওয়ার কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে লবণাক্ত পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ঝড় ও উচ্চ জোয়ারের কারণে বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। নিউপোর্ট বিচের বালবোয়া পেনিনসুলায় বন্যার পানিতে রাস্তায় থাকা ও চলাচলরত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব ঘটনার পর লেগুনা বিচের দমকল বিভাগ বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিকদের সতর্ক করে জানায়, গাড়ি আংশিকভাবে পানিতে ডুবে গেলেও সেটি চালানো বা চার্জ দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সাধারণত একটি সুরক্ষিত আবরণের মধ্যে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে, বিশেষ করে লবণাক্ত পানিতে ডুবে গেলে, সেই সুরক্ষা যথেষ্ট নাও হতে পারে। পানি ব্যাটারির বৈদ্যুতিক অংশে প্রবেশ করলে শর্ট সার্কিট ও ক্ষয় সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ব্যাটারির ভেতরে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে আগুন লাগার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এ ধরনের বিপজ্জনক প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। একবার এই প্রক্রিয়া শুরু হলে ব্যাটারির ভেতরে তাপ উৎপাদন ক্রমাগত বাড়তে পারে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো ব্যাটারি থেকে বিষাক্ত গ্যাসও নির্গত হতে পারে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি শুধু চালক বা যাত্রীদের জন্য নয়, দমকলকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
২০২২ সালে হারিকেন ইয়ানের পর ফ্লোরিডায় পানির সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬টি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা নথিভুক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ও ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষণায় এসব ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে গাড়িগুলো টো করে নিয়ে যাওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। ২০২৪ সালে হারিকেন হেলেনের পরও লবণাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় সহজাতভাবে বিপজ্জনক নয়। তবে বন্যার পানিতে ডুবে গেলে ব্যাটারির ক্ষতি বাইরে থেকে বোঝা নাও যেতে পারে। গাড়ির মেঝে ভিজে যাওয়া বা পানি ব্যাটারি সুরক্ষার অংশ পর্যন্ত পৌঁছানোকে সম্ভাব্য ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়ির মালিকদের বন্যার পূর্বাভাস থাকলে সম্ভব হলে গাড়ি উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি পানিতে ডুবে গেলে সেটি চালু, চালানো বা চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজে চালিয়ে সরানোর পরিবর্তে বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি মেরামতে প্রশিক্ষিত পেশাদারের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।
গাড়ির ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বের হলে, হিসহিস শব্দ শোনা গেলে, পটপট আওয়াজ হলে বা অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হলে অবিলম্বে দূরে সরে যেতে হবে এবং জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করতে হবে। গাড়ি নিজে সরানো বা আগুন নেভানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় আসন্ন এল নিনো মৌসুমে এ সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার ক্ষতি শুধু গাড়ির দৃশ্যমান অংশে সীমাবদ্ধ থাকে না; ব্যাটারির ভেতরে লুকানো ক্ষতিও পরবর্তী সময়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।