লস এঞ্জেলেসের ফেয়ারফ্যাক্স এলাকার আলোচিত ‘আবর্জনার বাড়ি’ আবারও ময়লা-আবর্জনায় ভরে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নগর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৪ সালে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরও একই পরিস্থিতি ফিরে আসায় তাঁদের হতাশা আরও বেড়েছে।
নর্থ মার্টেল অ্যাভিনিউয়ের ৭২ বছর বয়সী রেমন্ড গাওনের বাড়িটি বহু বছর ধরে আবর্জনা জমিয়ে রাখার কারণে পরিচিত। বাড়ির সামনের উঠানে আবর্জনার ব্যাগ, পুরোনো পোশাক, বোতল ও বিভিন্ন ফেলে দেওয়া জিনিস স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতি এলাকার পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ
২০২৪ সালে লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস বাড়িটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করার পর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। তখন বিপুল পরিমাণ আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার ময়লা জমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়েও একই সমস্যা দেখা দেওয়ায় নগর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেশীদের মধ্যে অবশ্য বাড়ির মালিককে কীভাবে সামলানো উচিত, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানার পক্ষে। তাঁদের মতে, বারবার পরিষ্কার করার পরও একই পরিস্থিতি ফিরে আসায় আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমছে না। অন্যদিকে, কয়েকজন মনে করেন, বয়স্ক এই ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া উচিত।
মেয়র কারেন বাসের দপ্তর জানিয়েছে, বাড়িটি নিয়ে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। আদালত একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যিনি ভবিষ্যতে সম্পত্তিটির অবস্থা ঠিক রাখতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ বাড়িটিতে আবর্জনা জমে থাকা, পরিচ্ছন্নতা এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য তদন্তের পরিকল্পনা করেছে।
বারবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরও সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এখন বাসিন্দারা স্থায়ী সমাধান চান। তবে বাড়ির মালিকের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহায়তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়, সেটিও কর্তৃপক্ষের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।