প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে লস এঞ্জেলেসের পশ্চিমাঞ্চল, মালিবু উপকূল এবং সান্তা মনিকা পর্বতমালার আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে রাতের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। কিছু এলাকায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১ থেকে ২ ইঞ্চি হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চল ও বজ্রঝড়ে আক্রান্ত এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু উপকূল, সান্তা মনিকা পর্বতমালার পূর্ব ও পশ্চিম অংশ এবং আশপাশের এলাকায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এসব এলাকায় অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল এমন জায়গায় দ্রুত পানি জমতে পারে। শহরের সড়ক, ছোট নদী ও খাল উপচে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও বন্যার সতর্কতা জারি রয়েছে। বেকার্সফিল্ড, তেহাচাপি, ফ্রেজিয়ার পার্ক এবং আশপাশের অঞ্চলে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে একই এলাকায় বারবার বজ্রঝড় তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন, ঝড়ের প্রভাবে শুধু বৃষ্টিই নয়, বজ্রঝড় ও দমকা বাতাসও দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিবায়ু বা টর্নেডোর সীমিত ঝুঁকিও রয়েছে। তবে সব এলাকায় একই মাত্রার ঝড় বা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। স্থানীয় পরিস্থিতি ও ঝড়ের গতিপথ অনুযায়ী এর প্রভাব বদলাতে পারে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণত বছরের এই সময়ে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম থাকে। ফলে দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের পর ভারী বৃষ্টি হলে শহরের কিছু এলাকায় পানি দ্রুত জমতে পারে। পাহাড়ি ঢাল, নিচু সড়ক এবং আগের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। এসব স্থানে বৃষ্টির পানি মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।
বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস ও স্থানীয় সতর্কতা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। পানি জমে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ পানির গভীরতা ও স্রোতের শক্তি বাইরে থেকে বোঝা কঠিন।
ঝড়টি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় বৃষ্টির পরিমাণ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কতটা হবে, তা নির্ভর করবে এর গতিপথ এবং বজ্রঝড়ের বিস্তারের ওপর। তাই বুধবার ও বৃহস্পতিবারের আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।