লস এঞ্জেলেস

ধনীদের সম্পদে কর বসানোর প্রস্তাব ঠেকাতে লাখো ডলার ব্যয়, সম্পদের তুলনায় খরচ সামান্য

ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর এককালীন কর আরোপের প্রস্তাব ঠেকাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন দেশটির শীর্ষ ধনীরা। তবে তাঁদের বিপুল সম্পদের তুলনায় এই রাজনৈতিক প্রচারের ব্যয় অত্যন্ত সামান্য। প্রস্তাবটির বিরোধিতায় অর্থ ঢালার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের বৈষম্য এবং ধনীদের কর দেওয়ার ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার আসন্ন ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রস্তাব ৪০ বা প্রপোজিশন ৪০ নিয়ে ভোট দেবেন নাগরিকেরা। এতে অঙ্গরাজ্যের যেসব বিলিয়নিয়ার ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ছিলেন, তাঁদের নিট সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কর থেকে কয়েক বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের ৯০ শতাংশ জনস্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। বাকি ১০ শতাংশ যাবে শিক্ষা, খাদ্য সহায়তা এবং কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কমানোর ফলে যে ঘাটতি তৈরি হতে পারে, তা পূরণে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ধনকুবের ও ব্যবসায়ী এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের অর্থায়নে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিজ্ঞাপন, প্রচারপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা এবং ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন এই বিরোধী প্রচারের সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের একজন। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে প্রচারে অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছেন। সাবেক গুগল প্রধান এরিক শ্মিট দিয়েছেন ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। পিটার থিয়েল, ক্রিস লারসেন এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতের অন্য ধনীরাও বিরোধী প্রচারে অর্থ দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বলছেন, ধনীদের সম্পদের তুলনায় এই প্রচার ব্যয় খুবই সামান্য। তাঁদের মতে, বিপুল সম্পদের মালিকদের করের আওতায় আনার উদ্যোগ ঠেকাতে এত অর্থ ব্যয় করাই দেখায়, প্রস্তাবটি তাঁদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, এই কর অর্থনীতি ও রাজ্যের বাজেটের ক্ষতি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনেও মতবিরোধ রয়েছে। শ্রমিক সংগঠন ও প্রগতিশীল রাজনীতিকদের অনেকে এর পক্ষে থাকলেও গভর্নর গ্যাভিন নিউসমসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক এর বিরোধিতা করছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ক্যালিফোর্নিয়া ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর এককালীন কর আরোপ করবে কি না। তবে এই লড়াই ইতিমধ্যে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার অর্থায়নে ধনীদের কাছ থেকে আরও বেশি কর নেওয়া উচিত, নাকি এমন উদ্যোগ রাজ্যের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে?