লস এঞ্জেলেস

ফোনে প্রেসক্রিপশনের কথা বলে হুমকি, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতারণার সতর্কতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিচয়ে ফোন করে বাসিন্দাদের ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্ক করেছে অঙ্গরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতারকেরা শুধু ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; পুলিশের ইউনিফর্ম পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করছে। কখনো ভুয়া ব্যাজ নম্বর, আবার কখনো সরকারি কর্মকর্তাদের আসল নাম ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে তারা। ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ (সিডিপিএইচ) বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বিভাগটির কর্মী পরিচয়ে ফোন করে সংবেদনশীল তথ্য চাওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রতারকেরা সাধারণত দাবি করে, ভুক্তভোগীর নামে কোনো প্রেসক্রিপশন বা ওষুধের অর্ডার পূরণ করা হয়েছে। এরপর পরিচয় যাচাইয়ের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে চাপ সৃষ্টি করে। তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিংবা প্রেসক্রিপশন বাতিল করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে নিজেদের জন্মতারিখ, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণার কৌশল আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফোনে কথা বলার পর ভুক্তভোগীকে ভিডিও কলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। পেছনে সাজানো ঘর, রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম কিংবা পুলিশের মতো পরিবেশ তৈরি করে পুরো ঘটনাটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। প্রতারকেরা কখনো ভুয়া ব্যাজ নম্বর ব্যবহার করে, কখনো প্রকৃত জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নাম বলে। আবার ফোন নম্বরও এমনভাবে পরিবর্তন করে দেখানো হয়, যেন কলটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকেই এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. এরিকা প্যান জানিয়েছেন, বিভাগটির কর্মী পরিচয়ে ফোন করে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে ফোন ও অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত তদন্ত বা সংক্রামক রোগের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রয়োজনে বিভাগের কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে ফোনে কখনোই ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চাইবেন না তাঁরা। বিভাগটি আরও জানিয়েছে, প্রতারকেরা কখনো ভুক্তভোগীদের এনক্রিপ্ট করা মেসেজিং অ্যাপ ডাউনলোড করে ভিডিও কলে যোগ দিতে বলে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশের চেষ্টাও করা হয়। এমনকি কাউকে কাউকে স্যাক্রামেন্টোর একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় সরাসরি দেখা করতে বলা হয়েছে। বারবার ফোন করা, হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়াও এই প্রতারণার অংশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৃত সরকারি কর্মীরা ফোনে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বা কোনো ধরনের অর্থ চাইবেন না। সন্দেহজনক ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগটি সত্যি কি না যাচাই করতে জনস্বাস্থ্য বিভাগের ৯১৬-৫৫৮-১৭৮৪ নম্বরে সরাসরি ফোন করা যাবে। এ ছাড়া স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের ReportFraud.ftc.gov ওয়েবসাইটে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কতজন এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, কারও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না কিংবা এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।