অরেঞ্জ কাউন্টির উপকূলীয় এলাকায় আগামী সপ্তাহে অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ারের আশঙ্কায় সৈকত, বাড়িঘর ও সড়ক রক্ষায় জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকি মোকাবিলায় সিল বিচে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই বালুর বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নিউপোর্ট বিচে বালুর বস্তা, পানি নিষ্কাশনের পাম্প এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উপকূলীয় রেল চলাচলেও সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সিল বিচে শুক্রবার কর্মীদের সৈকতে বালুর প্রতিরোধক বাঁধ নির্মাণ করতে দেখা যায়। সিল বিচ পিয়ারের দক্ষিণ দিকে এই বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে পড়া ঠেকাতে সেখানে পানি নিষ্কাশনের পাম্পও রাখা হয়েছে।
সাধারণত শহরটিতে মৌসুমি বালুর বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় আরও এক মাস পর। তবে আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ারের পূর্বাভাস পাওয়ায় এবার আগেভাগেই কাজ শুরু হয়েছে। বাঁধটি স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ করা হচ্ছে। এবার এটি পিয়ারের আগেই শেষ না করে পিয়ারের নিচ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক উচ্চ জোয়ারের সময় উপকূলীয় পাড়াগুলো প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। সে সময় স্থাপন করা অস্থায়ী বালুর বাঁধের পরিবর্তে এবার নতুন প্রতিরোধক তৈরি করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে শক্তিশালী ঢেউ ও অস্বাভাবিক উচ্চ সমুদ্রপৃষ্ঠের কারণে অরেঞ্জ কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে সৈকত ক্ষয় এবং জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পর থেকেই সতর্কতা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিউপোর্ট বিচেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের পানির উচ্চতা পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চি বেশি। এতে নিচু এলাকা এবং সমুদ্রসংলগ্ন বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে হাজার হাজার বালুর বস্তা বসানো হচ্ছে বালবোয়া আইল্যান্ডে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পাম্প, জোয়ারের পানি ঠেকানোর ভালভ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নিউপোর্ট বিচের দ্য ওয়েজ এলাকায় প্রতিরোধক বাঁধ শক্তিশালী করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাকে করে বালু আনা হচ্ছে। বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে রিভারসাইড কাউন্টির প্রাডো ড্যামের কাছাকাছি এলাকা থেকে। সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ২ হাজার ঘনগজ বালু সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ভারী যানবাহন ও নির্মাণকাজের কারণে দ্য ওয়েজ থেকে এম স্ট্রিট পর্যন্ত সৈকতে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষয়প্রাপ্ত সৈকত পুনরুদ্ধারে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে নিউপোর্ট বিচ। সান্তা আনা নদীর মোহনা থেকে অন্তত ১ লাখ ঘনগজ বালু ও পলি সরিয়ে ৩৬তম থেকে ৬২তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী সৈকতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
চলতি মাসের ৯ অক্টোবর উপকূলীয় এলাকায় বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট শক্তিশালী ঢেউ, উচ্চ জোয়ার এবং অস্বাভাবিক উঁচু সমুদ্রপৃষ্ঠ একসঙ্গে আঘাত হানায় সড়ক ও বাড়িঘরে সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়ে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার আগাম প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় রেল চলাচলে সাময়িক বিরতি
উচ্চ জোয়ারের আশঙ্কায় যাত্রীবাহী রেল চলাচলেও পরিবর্তন আনছে মেট্রোলিংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সোমবার থেকে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত অরেঞ্জ কাউন্টি লাইনে লাগুনা নিগেল/মিশন ভিয়েহো ও ওশেনসাইড স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে লস এঞ্জেলেস ইউনিয়ন স্টেশন থেকে লাগুনা নিগেল/মিশন ভিয়েহো পর্যন্ত ট্রেন চলবে। বন্ধ থাকা অংশে যাত্রীদের জন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা রাখা হবে না।
মেট্রোলিংকের এক মুখপাত্র জানান, এর আগে উপকূলীয় রেলপথে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সংস্থাটির ছয়টি কাউন্টিতে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ও অন্যান্য বিঘ্ন দেখা দিয়েছিল। উপকূলের এই অংশে একটিমাত্র রেললাইন থাকায় কোনো একটি স্থানে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলে পুরো ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে একই ধরনের পরিস্থিতিতে রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সংস্থাটি দেখেছে, লাগুনা নিগেল/মিশন ভিয়েহোর দক্ষিণে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখলে সমস্যার বিস্তার সীমিত রাখা সম্ভব হয়। এতে ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের সুযোগও পাওয়া যায়।
আগাম ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের সুযোগ দিতে চায় মেট্রোলিংক। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে হঠাৎ ট্রেন বাতিলের বদলে নির্ধারিত সময়ে পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুমতি দিলে অ্যামট্র্যাক প্যাসিফিক সার্ফলাইনার এবং মালবাহী ট্রেনগুলো ওই পথে চলাচল অব্যাহত রাখবে। ৩১ অক্টোবর শনিবার অরেঞ্জ কাউন্টি লাইনে স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানোর আশা করছে মেট্রোলিংক
সপ্তাহজুড়েই উচ্চ জোয়ারের পূর্বাভাস নিউপোর্ট বিচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকালে জোয়ারের উচ্চতা ৬ দশমিক ৫ ফুট, মঙ্গলবার ৬ দশমিক ৭ ফুট এবং বুধবার ৬ দশমিক ৬ ফুট হতে পারে। সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাব একত্রে কাজ করলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উঁচুতে উঠে আসে। এ ধরনের জোয়ারকে ‘কিং টাইড’ বলা হয়। এর সঙ্গে শক্তিশালী ঢেউ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উচ্চতা যুক্ত হলে উপকূলীয় প্লাবন ও সৈকত ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আগামী থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের সময়ও ৭ ফুটের বেশি উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতেও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিউপোর্ট বিচ কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগেই বাড়িঘর, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। শহরের করপোরেশন ইয়ার্ড, মেরিনা পার্ক এবং বালবোয়া পিয়ারের কাছে অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন থেকে বিনামূল্যে আগে থেকেই ভরা বালুর বস্তা সংগ্রহ করা যাবে। খালি বালুর বস্তাও শহরের ফায়ার স্টেশনগুলো এবং লাইফগার্ড সদর দপ্তরে সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে তা মজুত থাকা সাপেক্ষে। সম্ভাব্য উচ্চ জোয়ার ও উপকূলীয় প্লাবনের আগে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সপ্তাহজুড়েই উচ্চ জোয়ারের পূর্বাভাস নিউপোর্ট বিচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকালে জোয়ারের উচ্চতা ৬ দশমিক ৫ ফুট, মঙ্গলবার ৬ দশমিক ৭ ফুট এবং বুধবার ৬ দশমিক ৬ ফুট হতে পারে। সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাব একত্রে কাজ করলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উঁচুতে উঠে আসে। এ ধরনের জোয়ারকে ‘কিং টাইড’ বলা হয়। এর সঙ্গে শক্তিশালী ঢেউ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উচ্চতা যুক্ত হলে উপকূলীয় প্লাবন ও সৈকত ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আগামী থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের সময়ও ৭ ফুটের বেশি উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতেও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিউপোর্ট বিচ কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগেই বাড়িঘর, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। শহরের করপোরেশন ইয়ার্ড, মেরিনা পার্ক এবং বালবোয়া পিয়ারের কাছে অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন থেকে বিনামূল্যে আগে থেকেই ভরা বালুর বস্তা সংগ্রহ করা যাবে। খালি বালুর বস্তাও শহরের ফায়ার স্টেশনগুলো এবং লাইফগার্ড সদর দপ্তরে সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে তা মজুত থাকা সাপেক্ষে। সম্ভাব্য উচ্চ জোয়ার ও উপকূলীয় প্লাবনের আগে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।