লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে চলতি ফ্লু মৌসুমে প্রথম দুই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা জানান, মৃত দুজনই বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁদের আগে থেকেই কিছু শারীরিক অসুস্থতা ছিল। তবে কী ধরনের অসুস্থতা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের একজন ফ্লুর টিকা নেননি। অন্যজন উপসর্গ দেখা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে টিকা নিয়েছিলেন। ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হতে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। তাই টিকা নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই উপসর্গ শুরু হলে তখনো পূর্ণ সুরক্ষা তৈরি না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মৃতদের পরিচয়, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় কিংবা তাঁদের অসুস্থতার অন্যান্য বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুন্টু ডেভিস এক বিবৃতিতে বলেন, এই মৃত্যুগুলো মনে করিয়ে দেয় যে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তিনি ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব ফ্লুর টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্লুর টিকা গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এর মাধ্যমে শুধু নিজের নয়, পরিবারের সদস্য ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাতেও ভূমিকা রাখা যায়।
এদিকে কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বছরের এই সময়ে সাধারণত যে মাত্রায় ফ্লুর সংক্রমণ দেখা যায়, এবার তার তুলনায় সংক্রমণের তৎপরতা বেশি। পরীক্ষাগারে শনাক্ত হওয়া ফ্লুর নমুনা, ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগে আসা রোগী এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই উদ্বেগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কাউন্টির তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা নমুনার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগে আসা রোগীর হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। এর আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের সংখ্যা ১১৫ থেকে বেড়ে ১৪৪ হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমের এই পর্যায়ে সংক্রমণের এমন প্রবণতা নজরে রাখা জরুরি।
ফ্লু একটি সংক্রামক শ্বাসতন্ত্রের রোগ। অনেকের ক্ষেত্রে এটি জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শরীরব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। তবে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে—এমন মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ, ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেকের প্রতি বছর ফ্লুর টিকা নেওয়া উচিত। টিকা নেওয়ার পর শরীরে সুরক্ষা তৈরি হতে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ লাগে। তাই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর অপেক্ষা না করে আগেভাগেই টিকা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের মৌসুমে ফ্লুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও আগে থেকে অসুস্থ মানুষের সুরক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ফ্লুর উপসর্গ দেখা দিলে নিজের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।