লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ব্যবধান ঘুচিয়ে রমনের সঙ্গে সমান অবস্থানে বাস, বলছে নতুন জরিপ

লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান মেয়র কারেন বাস। নতুন এক জরিপে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমনের সমর্থন সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জরিপে দুজনেরই সমর্থন ৪০ শতাংশ। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ১৯ শতাংশ ভোটার।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্টাল স্টাডিজ এবং লস এঞ্জেলেস টাইমসের যৌথ উদ্যোগে জরিপটি পরিচালিত হয়। ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় ২ হাজার ১৯৭ জন সম্ভাব্য ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। জরিপের ত্রুটির সীমা প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট। সেপ্টেম্বরের জরিপে রমন ৩৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে বাসের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। তখন বাসের সমর্থন ছিল ২৮ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে সমান অবস্থানে পৌঁছেছেন বর্তমান মেয়র।

জরিপ বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থী স্পেন্সার প্র্যাটকে জুনের প্রাথমিক নির্বাচনে সমর্থন করা ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন বাসের দিকে যাওয়ায় তাঁর অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। নতুন জরিপে প্র্যাটের সমর্থকদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বাসকে এবং ১৪ শতাংশ রমনকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে এই ভোটারদের ৪৫ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ভোটারদের বিভিন্ন গোষ্ঠীতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। কৃষ্ণাঙ্গ সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে বাসের সমর্থন ৭১ শতাংশ, আর রমনের সমর্থন ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে, হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে দুজনের ব্যবধান কমে এসেছে। নতুন জরিপে রমনের সমর্থন ৪৩ শতাংশ এবং বাসের ৪০ শতাংশ।

তবে সমর্থন বাড়লেও বাসের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পুরোপুরি কাটেনি। জরিপে ৬৫ শতাংশ ভোটার তাঁর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, বিপরীতে ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। রমনের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। ৪৯ শতাংশ ভোটার তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিয়েছেন, আর ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৪২ শতাংশ। মেয়র নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে গৃহহীনদের অস্থায়ী শিবিরের সংখ্যা কমানো। ৪৩ শতাংশ ভোটার এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জননিরাপত্তা এবং সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণকে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ২৯ শতাংশ করে ভোটার। অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ২১ শতাংশ এবং নগর বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখা ১৭ শতাংশ ভোটারের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রচারযুদ্ধও জোরদার হয়েছে। তবে জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত ভোটের পূর্বাভাস নয়। এখনো অনিশ্চিত ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনে ভোটদানের হার শেষ পর্যন্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।