ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় শহর নিউপোর্ট বিচে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের পানি উপচে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে বালবোয়া দ্বীপ ও উপদ্বীপের মধ্যে চলাচলকারী ফেরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
মঙ্গলবার নিউপোর্ট বিচে জোয়ারের উচ্চতা ৮ দশমিক ৪ ফুটে পৌঁছায়, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জোয়ারের উচ্চতা ৬ দশমিক ৭ ফুট হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পানি আরও ওপরে উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বাসিন্দা ও নগর কর্তৃপক্ষকে।
শুধু নিউপোর্ট বিচ নয়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রেডন্ডো বিচ, হান্টিংটন বিচ ও লং বিচেও উপকূলীয় প্লাবনের ঘটনা ঘটেছে। সান পেদ্রোতেও জোয়ারের উচ্চতা আগের দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। মঙ্গলবার সেখানে প্রাথমিকভাবে ৮ দশমিক ১৯ ফুট উচ্চতার জোয়ার রেকর্ড করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণিমার প্রভাব, স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ সমুদ্রের পানি এবং সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের সম্মিলিত প্রভাবে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত উষ্ণ পানির প্রবাহও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখছে। সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২৫ থেকে ১ দশমিক ৮ ফুট বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউপোর্ট বিচের বালবোয়া উপদ্বীপের এক পাশে সমুদ্রসৈকত, অন্য পাশে উপসাগর। ফলে দুই দিক থেকে আসা পানির চাপে এলাকাটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসকারী বিল শার্প বলেন, প্রকৃতি মাঝেমধ্যে নিজের পাওনা আদায় করতে আসে।
পানি ঠেকাতে নগর কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা, অস্থায়ী বালুর বাঁধ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং একাধিক পাম্প ব্যবহার করছে। বিভিন্ন স্থানে চার ফুট উঁচু বালুর দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। তবে পুরোনো সমুদ্রপ্রাচীরের অনেক অংশ বর্তমান পানির উচ্চতা মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নগর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারীদের জন্য বালুর বস্তা ও অস্থায়ী দেয়াল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া ও জোয়ারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থ্যাংকসগিভিং, বড়দিন এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবসের ছুটির সময় আরও উঁচু জোয়ার হতে পারে। ওই সময় শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানলে বন্যা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শীতকালে ঠিক কতটা শক্তিশালী ঝড় হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।