আমেরিকা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের পরিবার থেকে পেন্টাগন, চারটি তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত না হলেও ক্ষমতাসীন দলের ওপর মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের কোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে তদন্তের জন্য সমন জারি, নথিপত্র তলব এবং শুনানি আয়োজনের ক্ষমতা পাবে দলটি। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের কর্মীরা সম্ভাব্য তদন্তের বিষয় ও সাক্ষীদের তালিকা তৈরি করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট নিজেও এসব তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। সম্ভাব্য চারটি তদন্তের ক্ষেত্র হলো— 1. ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও বিভিন্ন চুক্তি। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কাতারের উপহার দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলারের উড়োজাহাজ এবং ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষা চুক্তি তদন্তের আওতায় আসতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির সদস্য ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সুহাস সুব্রামানিয়াম বলেছেন, করদাতাদের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং দুর্নীতির মাধ্যমে কেউ সেই অর্থ আত্মসাৎ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে হোয়াইট হাউস অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য জনস্বার্থে কাজ করার পরিবর্তে ট্রাম্পের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা। 2. প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পেন্টাগনের কার্যক্রম ইরানের সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি, সামরিক ব্যয় এবং সেনাদের প্রস্তুতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নও তদন্তের বিষয় হতে পারে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচার ঠেকানোর নামে পরিচালিত নৌযানে হামলার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এপ্রিলে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের শুনানিতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়লে হেগসেথকে পদত্যাগ করতে হতে পারে অথবা ট্রাম্প তাঁকে সরিয়ে দিতে পারেন। তবে পেন্টাগন তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। 3. অভিবাসন অভিযান ও আইসের ভূমিকা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের (আইসিই) অভিযান চলাকালে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগও তদন্ত করতে চান ডেমোক্র্যাট নেতারা। বিশেষ করে দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কর্মকর্তাদের আচরণ এবং এসব অভিযানের পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে জটিল। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা না করে অভিযানের বিতর্কিত পদ্ধতিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাই ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। 4. ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের উদ্যোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যরা মনে করছেন, সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানো কঠিন হবে। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসন অনুমোদন করা সম্ভব হলেও সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করে অপসারণের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। তদন্ত শুরু হলেও তা থেকে কার্যকর ফল পাওয়া নিশ্চিত নয়। তবে ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, অভিযোগের তদন্ত না করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। তবে তদন্তের ফলাফল ও সম্ভাব্য আইনি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত।