ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের সামনে থাকছে ১৪টি রাজ্যব্যাপী প্রস্তাব। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে অর্থায়ন, নির্বাচনী প্রচারে সরকারি অর্থের ব্যবহার, ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, করনীতি পরিবর্তন এবং পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ক্যালিফোর্নিয়া এনভায়রনমেন্টাল ভোটার্সের প্রকাশিত ভোটার নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংগঠনটি ১৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৯টির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জনসেবার অর্থায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তাব ১-এ সাশ্রয়ী আবাসন ও সাবেক সেনাসদস্যদের আবাসন কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ১২৫ কোটি ডলারের বন্ড ইস্যুর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, কৃষিশ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসন প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ৮০ হাজারের বেশি পরিবার সাশ্রয়ী আবাসনের সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগঠনটি এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে।
প্রস্তাব ২-এর মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সংরক্ষিত তহবিলের সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় পরিবেশ সুরক্ষা, দাবানল প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির অর্থায়ন বজায় রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
প্রস্তাব ৪ নির্বাচনী প্রচারে সরকারি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করবে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের অর্থায়ন নিষিদ্ধ। প্রস্তাবটি পাস হলে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রচারের জন্য সরকারি অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করতে পারবে। অন্যদিকে, প্রস্তাব ৫ অনুমোদিত হলে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে প্রত্যাহারের ভোটে তাঁর বিকল্প উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রশ্নটি আর একসঙ্গে থাকবে না। প্রতিনিধি অপসারিত হলে পরবর্তী সময়ে আলাদা নির্বাচন বা প্রযোজ্য নিয়মে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাব ৩৯ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। এটি পাস হলে ভোট দিতে সরকারি পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে। সংগঠনটির আশঙ্কা, পরিচয়পত্র নেই এমন যোগ্য ভোটারদের জন্য এতে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাব ৪১, ৪২ ও ৪৩-এর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। এগুলো বিশেষ কর অনুমোদন, আর্থিক সম্পদের ওপর ভবিষ্যৎ কর আরোপ এবং স্থানীয় করসংক্রান্ত ভোটের নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংগঠনটির মতে, এসব পরিবর্তন পরিবেশ সুরক্ষা, গণপরিবহন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অগ্নিনিরাপত্তার মতো জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়ন কঠিন করতে পারে।
প্রস্তাব ৪৫-এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশগত পর্যালোচনা আইন শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই এবং জনমত জানানোর সুযোগ কমে যেতে পারে বলে এর বিরোধিতা করছে সংগঠনটি।
বাকি পাঁচটি প্রস্তাব হলো উচ্চ আয়ের ওপর বিদ্যমান কর স্থায়ী করা, মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের আবাসন ঋণ, চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় বন্ড, ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর এককালীন কর এবং স্বাস্থ্যসেবায় ক্লিনিকগুলোর ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা নিয়ে। এসব প্রস্তাবে সংগঠনটি এখনো কোনো অবস্থান জানায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ার নিবন্ধিত সক্রিয় ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ভোটাররা ডাকযোগে, নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে অথবা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রতিটি প্রস্তাবের সরকারি ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।