লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী সেতুতে বসছে নজরদারি ক্যামেরা, দেখা যাবে প্রাণীদের চলাচল

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী চলাচলের সেতুতে বসানো হচ্ছে বিশেষ ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সেতুটি ব্যবহার করে কোন কোন প্রাণী চলাচল করছে, তা পর্যবেক্ষণ করবেন বিজ্ঞানীরা। আগামী মাসে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। লস এঞ্জেলেসের কাছে সান্তা মনিকা মাউন্টেইনস এলাকায় নির্মিত ওয়ালিস অ্যানেনবার্গ ওয়াইল্ডলাইফ ক্রসিংয়ে চলতি মাসেই দূরনিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা স্থাপন করবেন সান্তা মনিকা মাউন্টেইনস ন্যাশনাল রিক্রিয়েশন এরিয়ার জীববিজ্ঞানীরা। এর মাধ্যমে সেতুটি ব্যবহার করে প্রাণীদের চলাচলের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ১০১ ফ্রিওয়ে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে প্রাণীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করতেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া ১১৪ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ। প্রধান সেতুটির দৈর্ঘ্য ২১০ ফুট এবং প্রস্থ ১৭৪ ফুট। এটি ১০১ ফ্রিওয়ের ওপর নির্মিত হয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় আগে মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আগুরা রোডের ওপর তৈরি দ্বিতীয় একটি সেতুর কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় উদ্যান বিভাগের জীববিজ্ঞানীরা সম্প্রতি নির্মাণাধীন সেতুর পাশের একটি পথে কয়েক ধরনের বন্যপ্রাণীর নিয়মিত চলাচল লক্ষ্য করেছেন। এসব প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ববক্যাট, কোয়োট, ধূসর শিয়াল, খচ্চর হরিণ ও মাউন্টেন লায়ন। সেতুর দক্ষিণ দিকের ঢাল বেয়ে ওঠা একটি কোয়োটের ছবি গত ২৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এটি নির্মাণাধীন সেতুতে কোনো প্রাণীর চলাচলের প্রথম ছবি। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ক্যামেরায় ধারণ করা প্রাণীদের ছবি সাধারণ মানুষের জন্যও প্রকাশ করা হবে। তবে নিরাপত্তার কারণে ছবিগুলো সরাসরি বা তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে না। আগুরা হিলসের লিবার্টি ক্যানিয়নের কাছে নির্মিত সেতুটি সান্তা মনিকা মাউন্টেইনসের বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের সঙ্গে উত্তরের সিমি হিলসকে যুক্ত করবে। এর ফলে প্রাণীরা ব্যস্ত ১০১ ফ্রিওয়ে পার হওয়ার নিরাপদ পথ পাবে। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিন লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ক্যামেরায় ছবি সংগ্রহের পাশাপাশি এটি আরও বড় একটি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ। জাতীয় উদ্যান বিভাগের জীববিজ্ঞানী ও অন্যান্য গবেষকেরা প্রাণীদের চলাচলের পাশাপাশি তাদের জিনগত বৈচিত্র্য, উদ্ভিদ, আলো, শব্দ এবং সামগ্রিক পরিবেশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মাধ্যমে সেতুটি পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হবে। সান্তা মনিকা মাউন্টেইনস ন্যাশনাল রিক্রিয়েশন এরিয়ার বন্যপ্রাণী বিভাগের প্রধান শেথ রাইলি বলেন, বিষয়টি শুধু প্রাণীরা সেতুটি ব্যবহার করছে কি না, তা জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহাসড়কের কারণে কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা একটি বাস্তুতন্ত্রকে আবার যুক্ত করতে সেতুটি কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। এর উত্তর পেতে কয়েক বছর ধরে গবেষণা চালাতে হবে। গত তিন দশক ধরে সান্তা মনিকা মাউন্টেইনস এলাকায় বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থলের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে গবেষণা করছেন জীববিজ্ঞানীরা। মহাসড়ক ও নগর উন্নয়নের কারণে প্রাণীদের চলাচল এবং তাদের জিনগত আদান-প্রদানে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন তাঁরা। সব প্রস্তুতি শেষে আগামী ২ ডিসেম্বর ওয়ালিস অ্যানেনবার্গ ওয়াইল্ডলাইফ ক্রসিংটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীদের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।