মধ্যপ্রাচ্য

হুথিদের হামলায় সৌদি ট্যাংকারে আগুন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে টানা ১২তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের বন্দর অবরোধের নির্দেশ অমান্য করায় বুধবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এনসেলিয়া এবং লায়লা নামের দুটি সৌদি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, এনসেলিয়া জাহাজটি লোহিত সাগরে চলার সময় হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজের সামনের অংশে আগুন লাগে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা যদি আবারও সৌদি জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে হুথিদের পাশাপাশি ইরানকেও বড় ধরনের সামরিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, হুথিরা ইরানের মদদপুষ্ট এবং তাদের কর্মকাণ্ডের দায় তেহরানকেও নিতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ-সামরিক স্থাপনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার রাতের মার্কিন হামলায় ইরাক সীমান্তের শালামচেহ এলাকায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশেও একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। বুশেহরেই ইরানের একমাত্র বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। এর জবাবে ইরান কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে বলে দাবি করেছে। তবে কুয়েত ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা এসব হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত বন্ধ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি তেলবাহী জাহাজ ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে একটি বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় এবং বাকি দুটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। হুথিরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে 'সামুদ্রিক অবরোধ' ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের অবরোধ এবং গত সপ্তাহে সানার বিমানবন্দরে হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরে ট্যাংকারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। এদিকে ওমান জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম