খেলাধুলা

রোমে আলকারাজের ঐতিহাসিক জয়

ইতালিয়ান ওপেনে যেন স্বাগতিকরাই ছিল সবচেয়ে বড় অসহায়। রোমের ক্লে কোর্টে লম্বা সময় ধরেই নারী একক কিংবা পুরুর এককে শিরোপার ছোঁয়া পাচ্ছিলেন না তারা। সেখানেই গেল পরশু ইতিহাস গড়ে টুর্নামেন্টটির নারী এককে ৪০ বছরের শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়েছিলেন ইতালিয়ান টেনিস সুন্দরী জেসমিন পাওলিনি। সেই জয়ের পর পুরুষ এককের শিরোপারও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বাগতিকরা।  এটিপি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান দখল করে থাকা তরুণ ইতালিয়ান টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনারের হাতে ধরেই তারা শিরোপা উঁচিয়ে ধরা দেখতে মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। সবার প্রত্যাশা ও চাপ যখন সিনারের কাঁধে, তখন কোর্টে আলো ছড়িয়েছেন স্প্যানিশ তরুণ কার্লোস আলকারাজ। ৭-৬ (৭-৫), ৬-১ গেমে টেনিস দুনিয়ার নতুন ক্লাসিক 'রাইভালরি'র এক মোক্ষম অধ্যায় লিখেছেন তিনি, জিতে নিলেন তার প্রথম ইতালিয়ান ওপেন শিরোপা। আর তাতে অপেক্ষা বেড়েছে স্বাগতিকদের এই ক্যাটাগরিতে শিরোপার স্বাদ নেওয়ারও।  ইতালিয়ান ওপেনের পুরুষ এককে সব শেষ স্বাগতিকরা শিরোপা জিতেছিল ১৯৭৬ সালে। সেবার ফাইনালের দুর্দান্ত এক লড়াইয়ে আর্জেন্টাইন গিলারমো ভিলাসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন আদ্রিয়ানো পানাত্তা। তারপর কেটে গেছে ৪৯ বছর একে একে অনেক ইতালিয়ান তারকা এসেছেন তবে রোমের শিরোপা জিততে পারেননি। কিন্তু এবার সিনার সম্ভাবনা বাড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি সময়ের পারফরম্যান্সে ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই ছিলেন তিনি। টানা ২৬ ম্যাচ ধরে হারের স্বাদ পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই তাকে নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখছিলেন স্বাগতিকরা। ফাইনালে সমর্থকদের সমুদ্রভেজা ভালোবাসাও পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি থেমে গেলেন আলকারাজের ট্যাকটিক্যাল সূক্ষ্মতায়।  ফাইনালে প্রথম সেটে দুবার সেট পয়েন্ট বাঁচিয়ে টাইব্রেকে জেতেন আলকারাজ। দ্বিতীয় সেটের প্রথম গেমে সিনারের কাছে 'ব্রেক' করার সুযোগ থাকলেও কাজে লাগাতে পারেননি। আলকারাজ ১-০ এগিয়ে যান। দ্বিতীয় গেমে সিনারকেই ব্রেক করে ২-০ এগিয়ে যান। তারপর আর থামানো যায়নি। ৫-১ এগিয়ে থেকে সার্ভকরার সময় আলকারাজ দুটি ম্যাচ পয়েন্ট হারান। তৃতীয়বারে সফল হন। দেশের মাটিতে স্থানীয়দের সমর্থনও তাতাতে পারেনি সিনারকে। প্রথম সেট এক ঘণ্টার ওপর চলে। দ্বিতীয় সেটে ৪০ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ে সপ্তম মাস্টার্স খেতাব জিতলেন আলকারাজ।  ম্যাচ শেষে আলকারাজ জানান, 'ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারাইনি। এটা সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচগুলোর একটি। আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত। মানসিকভাবে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম তা কাজে লেগেছে। প্রথম থেকে শেষ পয়েন্ট পর্যন্ত আমার কৌশল কাজে লেগেছে। গোটা ম্যাচে একই ছন্দ বজায় রাখতে পেরেছি।'   এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস