অনলাইন সার্চ বাজারে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের দেওয়া ঐতিহাসিক অ্যান্টিট্রাস্ট রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে গুগল।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে গুগলের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-অ্যান মুলহল্যান্ড বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছি—মানুষ গুগল ব্যবহার করে কারণ তারা চায়, বাধ্য হয়ে নয়। আদালতের ২০২৪ সালের আগস্টের রায় এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে।”
গুগলের দাবি, মার্কিন জেলা বিচারক অমিত মেহতার দেওয়া ওই রায় প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তন, উদ্ভাবনের গতি এবং তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের নির্দেশিত কিছু সংস্কারমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব ব্যবস্থা গুগলের একচেটিয়া ক্ষমতা সীমিত করতে যথেষ্ট কঠোর নয়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিকারমূলক আদেশ জারির সময় বিচারক মেহতা নিজেই স্বীকার করেন যে, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাব মামলার গতিপথ বদলে দিয়েছে। তবে তিনি সরকার পক্ষের গুগল ভেঙে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার ক্রোমকে আলাদা করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর পরিবর্তে বিচারক তুলনামূলকভাবে নমনীয় কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে—আদালত নির্ধারিত ‘যোগ্য প্রতিযোগীদের’ সঙ্গে গুগলের নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা। এই তথ্যে গুগলের সার্চ ইনডেক্সের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা, যা ইন্টারনেটের মানচিত্র হিসেবে কাজ করে এমন বিশাল ডেটাবেস।
এ ছাড়া নতুন প্রতিযোগীদের উদ্ভাবনের জন্য সময় ও সুযোগ দিতে গুগলকে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে গুগলের সার্চ ফলাফল প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে শুক্রবার গুগলের পক্ষ থেকে লি-অ্যান মুলহল্যান্ড এসব নির্দেশের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সার্চ ডেটা ও সিন্ডিকেশন সেবা ভাগ করে নিতে বাধ্য করা হলে তা মার্কিন নাগরিকদের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং প্রতিযোগীদের নিজেদের পণ্য তৈরিতে নিরুৎসাহিত করবে। তার মতে, এতে শেষ পর্যন্ত উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে গুগলের বাড়তি বিনিয়োগও নজরদারির মুখে পড়েছে। গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গুগলের ‘এআই সারসংক্ষেপ’ ফিচার নিয়ে তদন্ত শুরু করে, যা সার্চ ফলাফলের ওপরে প্রদর্শিত হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাষ্য, এই সেবায় গুগল ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য ব্যবহার করেছে কি না এবং প্রকাশকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুগলের দাবি, এই তদন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করতে পারে।
এ সব ঘটনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারমূল্য স্পর্শ করে ইতিহাস গড়ে। এর মাধ্যমে অ্যালফাবেট বিশ্বের মাত্র চতুর্থ কোম্পানি হিসেবে এই মাইলফলক অর্জন করল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম