আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিল সিয়েরা লিওন

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণকারী সর্বশেষ আফ্রিকান দেশ হলো সিয়েরা লিওন। বুধবার সকালে নয়জন পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীকে বহনকারী একটি বিমান রাজধানী ফ্রিটাউনের কাছের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দলে ছিলেন সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারী। তাদের সবাইকে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। এমনকি একজন বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোর করে নামানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, বহিষ্কৃতদের মধ্যে পাঁচজন ঘানার, দুজন গিনির এবং একজন করে নাইজেরিয়া ও সেনেগালের নাগরিক। গত সপ্তাহে সিয়েরা লিওনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিমোথি মুসা কাব্বা জানান, তাদের দেশ বছরে সর্বোচ্চ ৩০০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসী গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত হলো, তাদের অবশ্যই পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াসভুক্ত দেশের নাগরিক হতে হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ঘানা ও দক্ষিণ সুদানসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশেও বহিষ্কৃত অভিবাসী পাঠিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বহু অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠাচ্ছে, যেখানে তারা আগে কখনো বসবাস করেননি। অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল। সিয়েরা লিওনে অভিবাসীদের রাখা হচ্ছে কেনভাহ সল্যুশনস নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সেখানে রাখা হবে, এরপর নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠাতে ট্রাম্প প্রশাসনের খরচ হয়েছে সম্ভবত ৪ কোটি ডলারের বেশি। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের চুক্তির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী এবং এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন অসহায় অভিবাসীরা। গত সেপ্টেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আফ্রিকান দেশগুলোকে এসব “অস্বচ্ছ চুক্তি” প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটি বলেছিল, এসব চুক্তি মূলত মানুষের দুর্ভোগকে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ঘানাও জানিয়েছে, তারা কেবল ইকোওয়াসভুক্ত দেশের নাগরিকদেরই গ্রহণ করবে। ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা বলেন, পশ্চিম আফ্রিকার নাগরিকদের তাদের দেশে আসতে ভিসার প্রয়োজন হয় না।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম