যুক্তরাষ্ট্র সরকার নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছে। এর ফলে এখন থেকে বেশিরভাগ গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগ ইউএসসিআইএস শুক্রবার জানায়, “বিশেষ পরিস্থিতি” ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আর স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে না।
এই সিদ্ধান্তকে Donald Trump প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসন কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন ছাত্র, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসায় থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, আগের পদ্ধতিতে দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়ার সময় পরিবারগুলো একসঙ্গে থাকতে পারত। নতুন নিয়মে অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ইউএসসিআইএস বলেছে, যারা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং গ্রিন কার্ড চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে। এতে অভিবাসন ব্যবস্থাকে “আরও ন্যায্য ও কার্যকর” করা সম্ভব হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, “আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের যুগ শেষ।”
ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, “এখন থেকে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কেউ গ্রিন কার্ড চাইলে তাকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে, বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলে।”
তিনি আরও বলেন, পর্যটন বা অস্থায়ী সফরকে আর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে বর্তমানে যেসব আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর ওপর নতুন নিয়ম কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যেসব আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, সেগুলোর ক্ষেত্রে আগের প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারে। অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অভিবাসন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি বৈধ অভিবাসীর গ্রিন কার্ড আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেন, নতুন এই সিদ্ধান্ত “প্রতি বছর লাখো পরিবার ও নিয়োগদাতার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করবে।”
তিনি বলেন, “যারা নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন, তারাও এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।”
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এছাড়া চলতি বছরে ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের নতুন ভিসা দেওয়াও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম