আন্তর্জাতিক

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতে মার্কো রুবিও, তেল বিক্রিতে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে চার দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। শনিবার সকালে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। সফরে তার দিল্লি, জয়পুর ও আগ্রা যাওয়ারও কথা রয়েছে। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি ইস্যুই আলোচনার প্রধান বিষয় হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে প্রণালির পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশটি রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের জন্য বিদেশি সরবরাহের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে বর্তমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ভারত। মার্কো রুবিও ইতোমধ্যে বলেছেন, “ভারত যত বেশি কিনতে চায়, আমরা তত বেশি জ্বালানি বিক্রি করতে চাই।” তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি জ্বালানি আমদানিতে আগ্রহী হতে পারে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও কিছুটা কমবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারতের বড় ধরনের সুবিধা রয়েছে, যা নিয়ে প্রেসিডেন্ট Donald Trump দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আনা ভারতের জন্য সহজ নয়। দূরত্ব বেশি হওয়ায় খরচও বাড়বে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বর্তমান ঘাটতি পূরণে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত হবে না। এদিকে সফরটি এমন সময় হচ্ছে, যখন দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা এবং ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে মতবিরোধও চলছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের সংঘাত থামাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে ভারত এ দাবি সবসময় অস্বীকার করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরোধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ভারত কখনোই সমর্থন করে না। এছাড়া পাকিস্তান সেনাপ্রধান Asim Munir-কে ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসাও দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোয়াড জোট। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়। ২৬ মে দিল্লিতে কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও। তবে চলতি বছরের সম্ভাব্য কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প অংশ নেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে ভারত ব্রিকস জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে চীন, রাশিয়া, ইরান ও সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নেবে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম