আমেরিকা

ট্রাম্পকে মেলোনির জবাব: ‘নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে চিন্তা করুন’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর মেলোনি পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছেন, “নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে চিন্তা করুন।” শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমছে এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উন্নয়ন থেকে বিরত রাখার মার্কিন প্রচেষ্টাকে মেলোনি সমর্থন করছেন না। এর জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের “ক্রমাগত ও উসকানিবিহীন আক্রমণ” সম্পূর্ণ অর্থহীন। তিনি বলেন, “আমার জনপ্রিয়তা আপনার সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে বাড়েনি, আবার সেটি আমাদের সম্পর্কের ওপরও নির্ভর করে না।” মেলোনি আরও বলেন, “আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি আপনাকে পরামর্শ দেব, নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে মনোযোগ দিন।” এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় মেলোনি “বড় ধরনের লজিস্টিক সমস্যার” সৃষ্টি করেছেন। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ইতালীয় সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি বিদ্যমান সরকারি চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সেই চুক্তি লঙ্ঘন করতে দেবেন না। বিতর্কের সূত্রপাত হয় শুক্রবার, যখন মেলোনি ট্রাম্পের সেই মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “বারবার অনুরোধ” করেছিলেন। পরে ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিল। তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত সে খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি।” এর জবাবে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেলোনি বলেন, “আমি সত্যিই বিস্মিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এমন আচরণ করেন, আমি জানি না।” তিনি আরও বলেন, “একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত—আমি কিংবা ইতালি কখনও কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করি না।” মেলোনির এই বক্তব্য ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমর্থন পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেও ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। সে সময় ট্রাম্প পোপ লিও চতুর্দশ-কে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে মেলোনি সেই মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, একসময় ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে ক্রমেই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম