আমেরিকা

ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক চিঠি প্রদর্শনীতে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চিঠি প্রথমবারের মতো লন্ডনে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে ব্রিটিশ বাহিনীর আত্মসমর্পণ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ১৭৮১ সালের অক্টোবর মাসে ইয়র্কটাউন, ভার্জিনিয়া-তে ব্রিটিশদের পরাজয়ের পর চিঠিটি লেখা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ঘটনাই ছিল আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। চিঠিটি লন্ডনের দ্য ন্যাশনাল আর্কাইভস-এ অনুষ্ঠিত “রেভল্যুশন ২৫০: আমেরিকার স্বাধীনতার গল্প, ১৭৬৩–১৭৮৩” প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনীর কিউরেটর ড. শন কানিংহ্যাম বলেন, এটি ছিল সেই মুহূর্ত যখন ব্রিটেন বুঝতে পারে যে তাদের ১৩টি উপনিবেশ ধরে রাখা আর সম্ভব নয়। পরবর্তীতে এই উপনিবেশগুলোই যুক্তরাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি আরও বলেন, সংক্ষিপ্ত হলেও এই চিঠির প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি এমন এক ঐতিহাসিক মোড় নির্দেশ করে, যা পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের জন্য বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়। এই চিঠির মাধ্যমেই আলোচনা-প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত ১৭৮৩ সালের প্যারিস চুক্তিতে গিয়ে পৌঁছায়। ওই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। চিঠিটি ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা চার্লস কর্নওয়ালিস-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। যুদ্ধের পর এটি ইংল্যান্ডের অডলি এন্ড, এসেক্স-এ তাঁর পারিবারিক সংরক্ষণাগারে রাখা হয়। পরে ১৮৮০ সালে দলিলটি ব্রিটিশ সরকারি সংরক্ষণাগারে জমা দেওয়া হয়। প্রদর্শনীতে এই চিঠির পাশাপাশি স্ট্যাম্প অ্যাক্ট, টি অ্যাক্ট, বস্টন টি পার্টি-র বিবরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র-এর একটি কপিও প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনীটি বুধবার শুরু হয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম