আমেরিকা

মিসিসিপিতে মা, খালা ও দুই বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চতুর্থ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জ্যাকসনে মা, খালা ও দুই বছরের এক শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। জ্যাকসন পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সর্বশেষ সন্দেহভাজনকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডার বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গত শনিবার রাতে জ্যাকসনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী কিয়ানা ওয়েদারসবি, তার দুই বছর বয়সী ছেলে কামারি গিভেন্স এবং ৩০ বছর বয়সী বোন এরিকা ওয়েদারসবির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনজনের শরীরেই একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল। এর আগে মঙ্গলবার ২৫ বছর বয়সী মিকাইলা ইয়াংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় আরও দুই সন্দেহভাজন কর্নেলিয়াস কার্টার ও জর্ডান কার্টারকে। একই পদবি হলেও তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুজনের বিরুদ্ধেও ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কর্নেলিয়াস কার্টারের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চার সন্দেহভাজনের কাউকেই আদালত জামিন দেয়নি। তাদের পক্ষে এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি। তদন্তে জানা গেছে, দুই পুরুষ সন্দেহভাজনেরই দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। জর্ডান কার্টারের বিরুদ্ধে আগে অপহরণ, গুরুতর হামলা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলা ছিল। অন্যদিকে কর্নেলিয়াস কার্টার গুলির ঘটনার সময় আদালতের নির্দেশে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরে ছিলেন। অতীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং আটক কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনো এলোমেলো ঘটনা নয়; এটি ছিল পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে চালানো হামলা। তবে কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে বা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নিহত দুই বোনের ভাই ডেমার্কো বেইলি বলেন, দুই বোন মিলে ছোট্ট কামারিকে বড় করে তুলছিলেন। তারা পরিশ্রমী ও স্নেহশীল মানুষ ছিলেন। তিনি বলেন, "আমি শুধু বিচার চাই। শুধু আমার দুই বোনের জন্য নয়, আমার দুই বছরের ছোট্ট ভাগ্নের জন্যও।" পুলিশ জানায়, একটি সন্দেহজনক গাড়ির সূত্র ধরে প্রথম দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি এআর-ধাঁচের পিস্তল এবং আরেকটি সোনালি রঙের হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর নিহতদের একটি লাল রঙের ২০২০ মডেলের মিতসুবিশি মিরাজ গাড়ি নিখোঁজ ছিল। পরদিন সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সংস্থা, এমনকি এফবিআইও কাজ করছে। জ্যাকসনের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শহরে ৪১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৩৮টিই বন্দুক হামলার সঙ্গে জড়িত। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রতিক্রিয়াকারী বিশেষ দল গঠন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় তথ্যভিত্তিক পুলিশি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। মেয়র জন হর্ন বলেন, "অর্থহীন এই সহিংসতা আমাদের শহরের পরিচয় হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।"

এলএবাংলাটাইমস/ওএম