আমেরিকা

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম মারা গেছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের আকস্মিক অসুস্থতার পর তিনি মারা যান বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তাঁর কার্যালয়। এ সময় গ্রাহামের পরিবার তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে। ২০০২ সালে সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়া গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের একজন ছিলেন। তিনি সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে তিনি ইউক্রেন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন। সফরকালে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সফরের আগে তাঁর কোনো শারীরিক অসুস্থতার খবর জানা যায়নি। লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি গ্রাহামকে "একজন প্রকৃত আমেরিকান দেশপ্রেমিক" বলে উল্লেখ করেন। ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জোরালো সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম। সর্বশেষ ইউক্রেন সফরে তিনি রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁর মতে, এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও গ্রাহামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর গ্রাহাম ১০ বার ইউক্রেন সফর করেছেন এবং সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশটির জনগণের পাশে ছিলেন। জেলেনস্কি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্ব একজন দৃঢ়চেতা নেতাকে হারাল।" তবে ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রাহামের সম্পর্ক সবসময় এমন ছিল না। ২০১৫ সালে তিনি ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়ও তিনি বলেছিলেন, রিপাবলিকান পার্টি যদি ট্রাম্পকে প্রার্থী করে, তাহলে দলকে বড় মূল্য দিতে হবে। এমনকি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর সিনেটে দেওয়া এক বক্তব্যে গ্রাহাম বলেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা এখানেই শেষ। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থকে পরিণত হন। ২০২১ সালের অভিশংসন বিচারে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধে ভোট দেন তিনি এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। ২০২৩ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেছিলেন, ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত দিক থাকলেও তিনি একজন সফল প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত এবং রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগের মতো বিষয়গুলো তিনি ট্রাম্পের বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নীতিরও জোরালো সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য "দুঃখজনক ও বিপজ্জনক" বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইসরায়েলেরও দৃঢ় সমর্থক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, "লিন্ডসি গ্রাহাম বিশ্বাস করতেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "ইসরায়েল তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারাল।"

এলএবাংলাটাইমস/ওএম