স্বাস্থ্য

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণ বাড়ছে, ৩২ অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩ হাজার আক্রান্ত

পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ সাইক্লোস্পোরিয়াসিস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩২টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২ হাজার ৯৪৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সিডিসি বলছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেকেই চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান এবং তাদের রোগ শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হয় না। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৫৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৪৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সাধারণত বছরে প্রায় ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু এবার আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩১ গুণ বেশি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, দূষিত খাবারের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারীকে দায়ী করা যায়নি। সিডিসি জানায়, সাইক্লোস্পোরা নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। সাধারণত মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। অতীতে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল ও সবজির সঙ্গে এই রোগের সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাস্পবেরি, তুলসী পাতা, স্নো পি, মিশ্র লেটুস এবং ধনেপাতা উল্লেখযোগ্য। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক। গত ১ মে থেকে সেখানে ৪৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে ওহাইও, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৪। এছাড়া ইলিনয় ও ফ্লোরিডায়ও ১০০ জনের বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন পর্যন্ত ১ থেকে ১০টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সিডিসি জানায়, এই রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পাতলা পানির মতো ডায়রিয়া, যা অনেক ক্ষেত্রে ঘন ঘন এবং তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। সংক্রমণের পর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। তবে কারও ক্ষেত্রে এটি দুই দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এ কারণে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের চিকিৎসায় সাধারণত ট্রাইমেথোপ্রিম-সালফামেথক্সাজল (টিএমপি-এসএমএক্স) নামের অ্যান্টিবায়োটিক ১০ দিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগটি প্রতিরোধে সিডিসি ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার, নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ফেলে দেওয়ার, কাটা ফল ও সবজি ফ্রিজে সংরক্ষণ করার এবং কাঁচা ফল ও সবজি ধরার বা প্রস্তুত করার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম