নিউইয়র্ক

এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তলব ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান নিয়ে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর কয়েকজন সাংবাদিককে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পত্রিকাটি জানিয়েছে, ফেডারেল এজেন্টরা সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে সমন পৌঁছে দিয়েছেন। এতে তাদের শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগ ধারণা করছে, গোপন সরকারি তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই সমন জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করে, কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি এখনও প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মান পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এমনকি তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, তারা গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করছে। তবে সাংবাদিকরা তদন্তের লক্ষ্য নন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "সাংবাদিকদের নয়, যারা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ফাঁস করেছেন, তাদেরই তদন্ত করা হচ্ছে।" নিউইয়র্ক টাইমসের প্রধান আইনজীবী ডেভিড ম্যাকক্র বলেন, সাংবাদিকদের সমন পাঠানো সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। তাঁর ভাষায়, "এটি এমন একটি পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত করা এবং জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত করা।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার ম্যানহাটনে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাংবাদিকদের হাজির হতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যান্ড জুরি সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ জুরি, যারা প্রমাণ পর্যালোচনা করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, তা নির্ধারণ করে। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, নতুন বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সুবিধা এখনও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়নি। একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিবিএস নিউজও। এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার মতো সময় ও অর্থ পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে সব সময়ই হুমকি থাকে। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় আমি এক নম্বরে।" গত মাসে ট্রাম্প কাতার সরকারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উন্মোচন করেন। প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা সংযোজন করে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনীর দাবি, ব্যবহৃত এই বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের নিরাপদ যাতায়াতের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম