যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রচলিত নিয়ম বাতিলের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) মঙ্গলবার সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট নামে একটি বিল পাস করেছে, যার লক্ষ্য ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) সারা বছর কার্যকর রাখা।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে পাস হয়। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সদস্যরাই বিলটির পক্ষে ভোট দেন। এটি আইনে পরিণত হলে প্রতি বছর মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।
ভোট গণনার শেষ মুহূর্তে অধিবেশনে দায়িত্ব পালনকারী রিপাবলিকান সদস্য স্কট ডেসজারলেইস নিজের মোবাইল ফোনে দ্য বিটলসের জনপ্রিয় গান Here Comes the Sun বাজিয়ে পরিবেশকে কিছুটা ভিন্নমাত্রা দেন।
বিলটির প্রস্তাবক ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ভার্ন বুকানান বলেন, বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কাজের সূচি অযথাই ব্যাহত হয়। তাই এই নিয়ম বাতিল করা প্রয়োজন।
এখন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়ায় এটি সিনেটে উত্থাপন করা হবে। সিনেটেও একই নামে একটি বিল জানুয়ারি ২০২৫ সালে উত্থাপন করেছিলেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তিনি এ বিষয়ে আইন পাসে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের এই "অযৌক্তিক" ব্যবস্থা বন্ধ করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাঁর মতে, এতে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় কমবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। পরে এটি বাতিল হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবার চালু করা হয়। ১৯৬৬ সালে দেশজুড়ে সময় পরিবর্তনের নিয়ম একীভূত করা হয়। তবে হাওয়াই, অ্যারিজোনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চল—যেমন পুয়ের্তো রিকো ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ—এই নিয়ম অনুসরণ করে না।
তবে স্থায়ীভাবে ডে-লাইট সেভিং টাইম চালুর বিরোধীরাও রয়েছেন। তাদের মতে, এতে শীতকালে সকাল আরও অন্ধকার থাকবে, যা ভোরে চলাচলকারী মানুষের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া সকালে বেশি প্রাকৃতিক আলো থাকলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ও স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ কোনো না কোনোভাবে ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করে। এর বেশিরভাগই ইউরোপের দেশ। ইউরোপে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, জর্জিয়া, আইসল্যান্ড, রাশিয়া ও তুরস্কে এই ব্যবস্থা নেই। আর আফ্রিকায় বর্তমানে শুধু মিশরেই ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম