স্বাস্থ্য

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ, আক্রান্ত হতে পারেন ৭ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সাইক্লোস্পোরা (Cyclospora) নামের একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবীর সংক্রমণ। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এই পরজীবীতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর প্রধান লক্ষণ হলো বারবার তীব্র ও পানিযুক্ত ডায়রিয়া।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে এই সংক্রমণের বিস্তার ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মিশিগান ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা। শুক্রবার পর্যন্ত শুধু এই দুই অঙ্গরাজ্যেই ৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ পর্যন্ত এই সংক্রমণে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সিডিসি জানিয়েছে, বর্তমানে ১ হাজার ৬৪৫ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও প্রায় ৫ হাজার ১০০টি সম্ভাব্য সংক্রমণের তদন্ত চলছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেকেই চিকিৎসা না নিয়ে সুস্থ হয়ে যান বা পরীক্ষা করান না।

কোন কোন অঙ্গরাজ্যে বেশি সংক্রমণ?

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। সেখানে ৯ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০৯ জন অসুস্থ হয়েছেন।

এ ছাড়া নিউইয়র্কে ৫১০টি, নর্থ ক্যারোলিনায় ৩০৭টি এবং ইলিনয়ে ১৯৪টি সম্ভাব্য সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ওহাইওতেও গত এক মাসে ৪০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ইন্ডিয়ানা, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

কী এই সাইক্লোস্পোরা?

সাইক্লোস্পোরিয়াসিস হলো অন্ত্রের একটি সংক্রমণ, যা সাইক্লোস্পোরা নামের অণুবীক্ষণিক পরজীবীর কারণে হয়। দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

আক্রান্তদের প্রধান উপসর্গ হলো ঘন ঘন তীব্র পানিযুক্ত ডায়রিয়া। এছাড়া পেটব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা ও ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা না নিলে এই অসুস্থতা কয়েক দিন থেকে এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ কমে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ পর লক্ষণ দেখা দেয়।

জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির বিশেষজ্ঞ ড. ক্যাটলিন রিভার্স জানিয়েছেন, এই রোগ একজন থেকে আরেকজনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমেই সংক্রমণ ঘটে।

সংক্রমণের উৎস এখনো অজানা

সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খাবার খেয়েছিলেন এবং অসুস্থ হওয়ার আগের ১৪ দিনে বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস ছিল না।

এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত কৃষিখামার বা সেচের পানির মাধ্যমে খাদ্য দূষিত হয়। ফলে সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করা বেশ কঠিন।

আগের বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সাইক্লোস্পোরার সংক্রমণের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগ কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সম্ভব হলে কিছু খাবার রান্না করে খেতে এবং লেটুস বা কাঁচা পেঁয়াজের বাইরের স্তর ফেলে দিতে বলা হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে এই পরজীবী পুরোপুরি দূর করা কঠিন, তবুও সিডিসি ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারও যদি বারবার পানিযুক্ত ডায়রিয়া বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম