আমেরিকা

টানা সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েতসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। জর্ডানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। তবে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এটি সত্য নয়। চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ইয়াজদ শহর, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পাশের বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে। কুয়েতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়েকটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনাও আহত হয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ওয়াশিংটন অবশ্য দাবি করেছে, তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি পার্সিয়ান প্রকাশিত ভিডিও ও ছবির সত্যতা যাচাই করে জানিয়েছে, গারিভেহ সেতুর একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। রাতের ভিডিওতে সেতুর ওপর আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং দিনের আলোয় তোলা ছবিতে সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর টানা এক সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকেও আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম