আমেরিকা

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরান চুক্তি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করলে মার্কিন মিত্র ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্ট জানিয়েছেন, এক ফোন সাক্ষাৎকারে ওমানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, “ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর বোমা ফেলব।” এ সময় তিনি অশালীন ভাষাও ব্যবহার করেন বলে জানানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের কথায় ‘পথে বাধা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর গত প্রায় ছয় মাস ধরে প্রণালিটি অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। এটি পুনরায় খুলে দেওয়া এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান শুরু থেকেই এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। একই সময়ে ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে দেশটি। এরপরও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ওমান। ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত কিছু বিষয় ঠিক করে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে। এর আগে ওমানও ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলে জানিয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তেহরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে করা সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি চেয়েছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (MoU) মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তবে কিছুদিন পরই দুই পক্ষ আবার হামলা শুরু করলে সমঝোতাটি কার্যত ভেঙে পড়ে। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিবিসির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে চান? জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না।” এর আগে ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। একই সময়ে তিনি ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেছে আইআরজিসি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির কোনো কর্মকর্তার আলোচনা চলছে না। ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে। আমার কোনো সময়সীমা নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না।” এদিকে ট্রাম্প সোমবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আবারও বলেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এটাই তার প্রশাসনের “নম্বর ওয়ান” লক্ষ্য। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ওমানের মধ্যস্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ভেঙে পড়া সমঝোতা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম