আমেরিকা

ই জিন ক্যারল মামলায় ট্রাম্পের আবেদন ফের খারিজ

ই জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার রায় বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো খারিজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রকাশিত আদালতের আদেশের তালিকায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে কেন ট্রাম্পের আবেদন পুনরায় শুনতে আদালত রাজি হয়নি, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর আগে গত জুনেও সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই দেওয়ানি মামলাটি পর্যালোচনার আবেদন নাকচ করেছিল। এরপর ট্রাম্প আবারও আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবেদন সাধারণত খুব কমই গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। তাই ট্রাম্পের আবেদনটি শুরু থেকেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। নিউইয়র্কের সাবেক ম্যাগাজিন কলাম লেখক ই জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৩ সালে একটি ফেডারেল দেওয়ানি জুরি ট্রাম্পকে ক্যারলকে যৌন নিপীড়নের জন্য দায়ী করে। একই সঙ্গে পরে ক্যারলকে মানহানি করার দায়েও তাকে দায়ী করা হয়। ক্যারলের অভিযোগের পাশাপাশি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তার বিরুদ্ধে পোস্টও দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগটি অস্বীকার করে ক্যারলকে নিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি নাকি ‘আমার ধরনের নারী নন’। এই মন্তব্য থেকেই মানহানির মামলাটি সামনে আসে। জুলাইয়ে ওই দেওয়ানি মামলায় ট্রাম্পকে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর ক্যারল তার আইনজীবী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত এক নিউজলেটারে তিনি লেখেন, একজন বয়স্ক নারী একা হয়তো বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন না। কিন্তু তার সঙ্গে যদি দেশের সেরা আইনজীবীদের একটি দল থাকে এবং বিশ্বের নারীদের সমর্থন থাকে, তাহলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছিলেন—জুরির দেওয়া সেই রায় এখন চূড়ান্ত এবং আর কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। ট্রাম্পের আইনজীবীরা অবশ্য শুরু থেকেই মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, বিচারক এমন কিছু প্রমাণ জুরিদের সামনে উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা ট্রাম্প সম্পর্কে তাদের ধারণাকে প্রভাবিত করেছিল। এর মধ্যে ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওও ছিল। ওই ভিডিওতে নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে এবং তাদের শরীর স্পর্শ করার বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছিলেন, এই ভিডিও জুরিদের দেখানো উচিত ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জুনে আদালত তার আগের আবেদন খারিজ করার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ একটি পোস্টে মামলাটিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা’ এবং ‘আইনি হয়রানির’ উদাহরণ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘হাস্যকর’ মানহানির মামলা বলেও মন্তব্য করেন। এদিকে ক্যারলের করা আরেকটি পৃথক দেওয়ানি মানহানি মামলায় ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার রায়ও বাতিলের আবেদন করেছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তাদের যুক্তি, প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, সেসব মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। ওই পৃথক মামলায় ট্রাম্পের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম